

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: তোমার মেয়ে মারা গেছে তুমি কেস করে কি করবা? কিস চালাতে টাকা লাগে তোমার কি টাকা আছে? তুমি তোমার মেয়েকে নিয়ে যদি মামলা কর তাহলে তুমি নিজেই ফেঁসে যাবা। তাই তোমার কোন মামলা করার দরকার নেই। কথাগুলো বললেন ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার রেল কলোনিতে বসবাসকারী রুটির কারখানার শ্রমিক বিলকিস বেগম। দরিদ্র অসহায় বিলকিস বেগমের ৩ সন্তানের মধ্যে এক মেয়ে নাম তার হাজেরা খাতুন বয়স ১৪। মেয়ে বড় হয়ে গেছে রুটির ফ্যাক্টরিতে সারাদিন কাজ করে । চারিদিকে হায়েনার দল দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এই আশঙ্কায় ৪ মাস আগে বিলকিস বেগম তার মেয়ে কে বিবাহ দেয় কোটচাঁদপুর উপজেলার মামুনশিয়া-হরিণদিয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম এর ছেলে তুহিনের সাথে। মেয়ের বয়স অল্প তাই তাজুল ইসলাম তার গ্রামের এক মাওলানা দিয়ে বিয়ে পড়িয়েছেন। গোসল করে কাবিন করেছেন ৬০ হাজার টাকায়।
বিলকিস বিয়ে দিয়ে ভেবেছিলেন যাক বেঁচে গেলাম এই যাত্রায়। কিন্তু ৫ ই নভেম্বর এমন খবর আসবে সে আশা করিনি। হঠাৎ ঐ দিন রাতের বেলায় সাড়ে ৮টার দিকে তাজুল ইসলাম ফোন করে জানায় তার মেয়ে বিষ খেয়েছে হাসপাতালে ভর্তি। ছুটে যায় বিলকিসসহ হাসপাতালে আর বেশ কয়েকজন। জানতে পারি মেয়েকে ওয়াশ করা হয়েছে। কোন কথা বলছে না। নিথর দেহ। তার আধা ঘন্টার মধ্যেই তার মেয়ে হারিয়ে যায়। মৃতদেহ পোস্টমাডাম করা হয়েছে। থানায় গিয়েছিল কিছু বলতে পারিনি। গত রবিবার ৯ই নভেম্বর ফুলবাড়ীর গেটে মাওলানা মোয়াবিয়া হোসেন তাকে খবর পাঠিয়েছিল। সে সেখানে গিয়েছিল তার মেয়ের শ্বশুরসহ কয়েকজন এসেছিল তারা মাওলানা মোয়াবির কাছে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে গেছে বিলকিসে টাকা নেইনি। বিলকিসের প্রশ্ন তার মেয়েকে যদি না মেরে ফেলা হয় তাহলে তারা আমাকে টাকা দিতে আসবে কেন?
ঘটনা জানতে সাংবাদিকগণ হরিণদিয়া গ্রামের তাজুল ইসলামের বাড়িতে গেলে তাজুল ইসলাম প্রথমে সাংবাদিক দেখি উনি লোকজন ডাকতে যায়। সাংবাদিকের কথা শুনে তার বড় বোন এসে বলে যে একটু ভুলের জন্য মেয়েটা মারা গেছে। আমরা ভেবেছিলাম সে বিষ খেয়েছে কিন্তু না। তার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা ছিল। ওয়াশ করার কারণে মারা গেছে। কিন্তু বুকে কি কারনে ব্যথা সেটা সে বলতে পারেনি। পড়া ঘুরে তাজুল ইসলাম হাজির হয় তার নিকট জানতে ক্যামেরা ধরলে সে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি না। রাগান্বিত হয়ে বলেন সে বিষ খেয়েছে হাসপাতালে ভর্তি করেছি থানায় পোস্টমাডাম রিপোর্ট আসলে তখন বোঝা যাবে আপনারা সেখানে গিয়ে জানেন। বলে সাংবাদিকদের উপর বেশ ক্ষেপে যান। তখন তার স্ত্রী বলে যে আমি বাইরে ছিলাম এসে দেখি সে ছটফট করছে বুক ডলে দিচ্ছি কিন্তু কিছু হচ্ছে না আমার ছেলে স্কুল মাঠে ছিল। ভাবলাম মনে হয় বিষ খেয়েছে মুখ সুখে দেখলাম গন্ধ নেই। ওর মার। ও দোষের ভাব আছে। তবে আগে অসুস্থ দেখিনি। হাসপাতালে নিয়ে ওয়াশ করা হয় তারপরই মারা যায়। মনে হয় হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। তুহিন সাংবাদিকের কথা শুনে বাড়ি থেকে সরে পড়েছে। তাজুল ইসলাম বোন কি বলেছে জানতে পারার পর উনি বেহুঁশ হয়ে যাচ্ছে। ওখান থেকে সাংবাদিকদের ফিরে আসা ছাড়া গতান্তর নেই।
বিলকিসের অভিযোগ আমার মেয়েকে আমার জামাই আর জামাইয়ের মা পাশের বাড়ির এক নতুন বউকে দেখতে যাওয়ার অপরাধে তার বুকে লাথি মারে এবং মারধর করে পরে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে বিষ খাওয়ার নাটক সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। যদি ওয়াশ না করতো তাহলে আমার মেয়ে মরতো না। আমার মেয়েকে ওরা মূলত মেরে ফেলেছে। আমি গরিব মানুষ তাই আমার কিছু করার নেই। ওর বাবাকে দশ বছর আগে মানুষের মেরে ফেলেছিল। আমি ওদের নিয়েছিলাম। আমার মেয়েকেও মেরে ফেলল।কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ এর সাথে কথা বলে জানা যায় যে হাজেরার পোস্টমর্টেম হয়েছে সেই সাথে থানায় একটি ইউ ডি মামলা রেকর্ড হয়েছে। রিপোর্ট আসলেই জানা যাবে হাজরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭