ঢাকারবিবার , ১২ অক্টোবর ২০২৫

মহেশখালীতে বিচারকাজ চলে ভাড়া ভবনে!


অক্টোবর ১২, ২০২৫ ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কক্সবাজার প্রতিনিধি:   মহেশখালী উপজেলার কেন্দ্রস্থলে নির্মিত আদালত ভবনটি ২০১৫ সালে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে স্থানীয় আদালতের কার্যক্রম চলছে ভাড়া করা ডাক বাংলোর চারটি ছোট কক্ষে।

বর্তমানে শুধুমাত্র ফৌজদারি কার্যবিধির অধীনে মামলার কার্যক্রম চলছে সেখানে। কিন্তু জায়গার চরম সংকটের কারণে একসঙ্গে ১০ জন মানুষও বসা বা দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। চারদিকে নথিপত্রের ঠাসাঠাসি, কর্মকর্তাদের কাজের অসুবিধা, বিচারপ্রার্থীদের জন্য বসার জায়গা ও শৌচাগারের অভাব—সব মিলিয়ে এক অচল পরিবেশে চলছে ন্যায়বিচারের প্রক্রিয়া।

আদালতের এডভোকেট ক্লার্ক নিলয় রফিক প্রতিবেদককে জানান, বিপুলসংখ্যক মামলার কারণে প্রতিদিন ভিড় থাকে। দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বৃষ্টির দিনে দুর্ভোগ হয় আরও ভয়াবহ। স্থানীয় সেবাপ্রার্থী আলী হোসেন অভিযোগ করেন, আদালতের সীমিত সংখ্যক ওয়াশরুমও সবসময় তালাবদ্ধ থাকে। ফলে বিচারপ্রার্থীরা দারুণ ভোগান্তিতে পড়েন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুরাতন ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ থাকলেও কাজ শুরু হয়নি। কন্ট্রাক্টরের নিষ্ক্রিয়তা, প্রশাসনের শিথিল নজরদারি এবং দৃঢ় হস্তক্ষেপের অভাবে। ফলে দ্বীপাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ আদালত কার্যত অচল পরিবেশে পরিচালিত হচ্ছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে প্রতিনিয়ত জটিল করে তুলছে।

আইনজীবীদের মতে, আদালতের অবকাঠামো উন্নয়নে দায়িত্ব থাকলেও কাজের অগ্রগতি পুরোপুরি নির্ভর করছে নির্বাহী বিভাগের ইচ্ছা ও মনোযোগের উপর। এর ফলে প্রশাসনিক জটিলতায় প্রতিদিন ব্যাহত হচ্ছে বিচার কার্যক্রম।

সাবেক বিচারক শাহজাহান সাজু জানান, সুপ্রিম কোর্ট বা সচিবালয়ের অধীনে থাকলে কাজ দ্রুত সম্পন্ন হতো। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ নিলেও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় না হলে অগ্রগতি স্থবির হয়ে যায়। বাজেট জটিলতার অজুহাতেই বছর বছর কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে। উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং ছাড়া এ অবস্থা কাটানো সম্ভব নয়।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ওমর ফারুক জানান, বিচার বিভাগের বাজেট মাত্র ২ শতাংশ, অথচ বিভিন্ন প্রশাসনিক ভবনে ব্যয় হয় প্রায় ৪৭ শতাংশ। এই বৈষম্যের কারণে বিচার বিভাগের উন্নয়ন পিছিয়ে আছে বহুদিন। জরুরি ভিত্তিতে মহেশখালী আদালত ভবনের কাজ শুরু না হলে প্রান্তিক মানুষের বিচার প্রাপ্তির পথ আরও কষ্টকর হয়ে উঠবে।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।