লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: দূর্গা পূজাতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ফেসবুকসহ সোস্যাল মিডিয়াতে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের আলোচনা, সমালোচনার জবাবে ২ অক্টোবর এক ফেসবুক পোষ্ট করেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী কমলনগর উপজেলার সেক্রেটারি মাওলানা আকরাম হোসাইন।তিনি তার ফেইসবুক পোষ্টে বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামীলীগ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপর ইতিহাসের বর্বরচিত জুলুম নির্যাতন চালিয়েছে। এই জুলুম করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ দুইটা কার্ড খেলেছে, (১) রাজাকার (২) মৌলবাদ। দেশে এবং বিদেশে জামায়াতে ইসলামীকে মৌলবাদ, জঙ্গি গোষ্ঠী হিসেবে তারা প্রমাণ করতে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে। বোমাবাজি, মন্দিরে হামলা করে আওয়ামীলীগ মিডিয়া দিয়ে জামায়াতের নাম প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছে। রামু, যশোর অভয়নগর সহ অসংখ্য জায়গায় তারা মন্দিরে আক্রমণ করে নাম দিয়েছে জামায়াতের। যা পরে প্রমাণিত হয়েছে সব গুলোর সাথেই লীগ জড়িত। এদেশের হিন্দুদের সামনে জামায়াতকে ভয়ঙ্করভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। জামায়াত কখনো ক্ষমতায় আসলে এদেশে হিন্দুরা থাকতে পারবেনা, তাদের জায়গা জমি দখল হবে মর্মে নানান ন্যারেটিভ দাঁড় করানো হয়েছে। ৫আগষ্ট লীগ পালিয়ে যাওয়ায় পরে এদেশের ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে জামায়াত তার দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। জামায়াত সম্পর্কে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা দূর করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, জামায়াত এদেশের সকল মানুষকে ধারণ করেই রাজনীতি করতে চায়। সকল মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে চায়, সকলকে বুঝাতে চায় ইসলামি অনুশাসনের মধ্যেই সকলে নিরাপদ। জামায়াত কখনো ক্ষমতায় আসলে সকল ধর্মের মানুষ তার ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। তারা নিরাপত্তার মধ্যে থাকবে।
ধর্মীয় প্রমাণ দিতে তিনি লিখেন,
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন –
“আল্লাহ তোমাদের নিষেধ করেন না তাদের সাথে সদ্ব্যবহার ও ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে, যারা ধর্মের কারণে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করে না এবং তোমাদের ঘর থেকে বহিষ্কার করে না।”
হযরত আমর ইবনুল আস (রা.) যেমন মূর্তির নাকের নিরাপত্তা দিতে না পেরে নিজের নাক কেটে দিতে চেয়েছেন, ঠিক তেমনি আমরাও সকল ধর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। গত ১০ দিন পূর্বে পুজা কমিটি থেকে আমাদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে, আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি তারা নির্ভয়ে তাদের পূজা পালন করতে পারবে। এখন দাওয়াত দেওয়ার পরে আমরা যদি না যেতাম, তাহলে তারা আামাদের সম্পর্কে কি ধারনা পোষণ করতো? আওয়ামীলীগ ১৭ বছর যে ন্যারেটিভ দাঁড় করিয়েছে, সেটা কি তারা সত্যি বলে মনে করতোনা?
জামায়াত সহ মুসলিমদের প্রতি তাদের ধারনা কেমন হতো? এত কিছুর পরেও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়, প্রশ্ন হইলো হিন্দুদের পুজামন্ডপে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বা জনপ্রতিনিধিরা যেতে পারবেন কিনা একজন জনপ্রতিনিধি মন্দিরে যেতে পারেন, কারন তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং এটি একটি সাধারণ সামাজিক ও রাজনৈতিক সৌজন্যতা। যদিও তিনি মন্দিরে প্রার্থনা করতে পারবেন না।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন,তাই কোন নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করা তার দায়িত্বের মাঝেও পড়ে। যা সকল ধর্মীয় সম্প্রীতি রাখতে সাহায্য করে, জনপ্রতিনিধি তার সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা এবং সম্প্রীতি বৃদ্ধি করতে পারেন। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি তার নির্বাচকমন্ডলীর আস্থা অর্জন করেন। তবে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, একজন মুসলিম হিসেবে তিনি মন্দিরের অভ্যন্তরীণ রীতি-নীতি ও প্রার্থনার অংশ হতে পারেন না। কারন ইসলামে এমন ধরনের কাজ নিষিদ্ধ। তিনি কেবল একজন অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে পারেন।

