

রংপুর প্রতিনিধি: তিস্তা নদীতে আসা আকস্মিক বন্যার পানি কমলেও গঙ্গাচড়া উপজেলার চর এলাকায় বন্যার ক্ষতচিহ্ন এখন চোখে পড়ছে। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া পানি ও উজানের ঢলে নদীর তীরবর্তী এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বিশেষ করে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে সেতু ও রংপুর–লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কে প্রতিদিন যাতায়াত করা ৩০-৩৫ হাজার মানুষকে দুশ্চিন্তার ফেলেছে । প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ সেতু রক্ষা বাঁধের ক্ষতি চলতে থাকে ১১ আগস্ট থেকে। প্রথমে ৬০ মিটার অংশ ধসে ৭০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়।কিন্তু সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সময়মতো সংস্কার না করায় ধস বৃদ্ধি পায়। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০০ মিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয় এবং ৭ অক্টোবর পর্যন্ত সেই ধস বেড়ে দাঁড়ায় ৩০০ মিটার।
নোহালী ইউনিয়নের চর বাগডহরা গ্রামের মধ্য চর বড়াইবাড়ী খেয়াঘাট সংলগ্ন মন্টু মিয়ার বাড়ির সামনে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে । এছাড়া মিনা বাজার সংলগ্ন আব্দুল হান্নানসহ কয়েকজনের ফসলি জমিতেও দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন ঝুঁকির । একই সঙ্গে মিনা বাজার থেকে বড়াইবাড়ী খেয়াঘাট পর্যন্ত নির্মিত বাঁধের মাথায় ভাঙন শুরু হয়েছে।ওই এলাকায় বন্যায় কাঁচা রাস্তা, বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।চর শংকরদহ এলাকার কৃষক মুকুল ইসলাম জানান, ধান ঘরে তোলার ঠিক ২০-২৫ দিন আগে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় ফসল সব নষ্ট হয়ে গেছে। এখন আমাদের জীবিকা নির্বাহে বিপন্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।উপজেলা এলজিইডি শাহ মোঃ ওবায়দুল রহমান জানান, সেতু রক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বিষয়ে আমরা বিস্তারিত প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছি। অনুমোদন ও বরাদ্দ মিললেই দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২০ হেক্টর আমন ধান, ১ হেক্টর মাসকলাই, ২ হেক্টর বীজবাদাম এবং ০.৫ হেক্টর সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে।গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা জানিয়েছেন,উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টির কারণে পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল। এখন নদীর পানি কমে স্বাভাবিক অবস্থায় এসেছে । সোমবার বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের সহযোগিতায় ২০ মেট্রিক টন চাল ও দুই লাখ টাকা নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে। ত্রাণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবকরা অংশ নিয়েছেন।স্থানীয়রা বলছেন ,তিস্তা নদী আমাদের জীবন যুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা শুধু ত্রাণ চাই না,পরিত্রাণ চাই। তিস্তা মহা পরিকল্পনার বাস্তবায়নই স্থায়ী পরিত্রাণের একমাত্র উপায়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭