

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অঙ্গ সংগঠন কৃষকদল দীর্ঘদিন ধরে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় প্রশংসিত হলেও, সম্প্রতি গাজীপুর মহানগর কৃষকদলকে ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে—সংগঠনটি এখন আওয়ামী পুনর্বাসনের আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর সারাদেশে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো সাংগঠনিক পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে গেলেও, গাজীপুর মহানগর কৃষকদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আজও ঘোষণা করা হয়নি। কয়েক মাস আগে তিন সদস্যবিশিষ্ট আহবায়ক কমিটিটি পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি হিসেবে গঠন করা হলেও রহস্যজনক কারণে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পায়নি।
সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত কমিটির কয়েকজন সদস্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। এদিকে ওই সুযোগে কিছু ব্যক্তি নিজেকে ‘যুগ্ম আহবায়ক’ পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় হয়ে পড়েছেন, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।গত ২ অক্টোবর গাছা, টঙ্গী পূর্ব, টঙ্গী পশ্চিম ও পূবাইল থানার আংশিক আহবায়ক কমিটি গঠনের পরদিনই টঙ্গী পূর্ব থানা কৃষকদলের কমিটি স্থগিত করা হয়। অভিযোগ ওঠে—কমিটিতে আওয়ামী লীগের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।অন্যদিকে, দীর্ঘদিন কৃষকদলের সঙ্গে সম্পর্কহীন এমন ব্যক্তিদের দিয়েও কিছু কমিটি গঠনের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা কেন্দ্রীয় মহলে অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
গাছা থানা কৃষকদলের সদস্য সচিব মো. লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখনও গাছা এলাকার দেয়ালে তার পুরনো আওয়ামী আমলের ব্যানার-ফেস্টুন দেখা যায়। এসব অভিযোগের পরও গাজীপুর মহানগর কৃষকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান, সদস্য সচিব খান জাহিদ হাসান নিপু ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মইজ উদ্দিন কর্ণপাত করছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
সম্প্রতি ১৭ অক্টোবর কাউলতিয়া সাংগঠনিক থানা কৃষকদলের আংশিক আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেখানে আহবায়ক হিসেবে মনোনীত মো. রফিকুল ইসলামকে বিগত আওয়ামী সরকারের সময় পুলিশের সোর্স ও সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
“Ni Jony” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে করা পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়—
“গাজীপুর মহানগর কৃষকদল—আমরা কি আপনাদেরকে আওয়ামী লীগের বি-টিম বলতে পারি?”পোস্টটির নিচে বহু সমালোচনামূলক মন্তব্য পাওয়া যায়, যেখানে তৃণমূলের কর্মীরা সংগঠনের স্বচ্ছতা, আদর্শ ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার দাবি জানান।
বিএনপির বিরুদ্ধে অতীত আওয়ামী সরকারের দমননীতি ও নির্যাতনের ইতিহাস এখনো তাজা। কিন্তু আজ সেই ঘরানার ব্যক্তিদের কৃষকদলে স্থান দেওয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—
“গাজীপুর মহানগর কৃষকদল কি আওয়ামী পুনর্বাসনের দায়িত্ব নিয়েছে?”তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি কর্মী ও সমর্থকরা সংগঠনের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭