ঢাকাশুক্রবার , ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ খবর

ভ্রাম্যমান গ্রামীণ সিম বিক্রয়ের প্রতারণার শিকার হয়ে মামলার ফাঁদে অসহায় বৃদ্ধা নারী।


সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৫ ৪:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:    ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি ইউনিয়ন ফুলহরি গ্রামে আম্বিয়া খাতুন (৫৯) নামে সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ মোতাবেক ২৭ (গ) (২)৩০/২৫ (ক)(২) মামলা হয়েছে মৌলভীবাজার জেলা আদালতে। এই মামলার আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে মৌলভীবাজার পিবিআই কার্যালয়ে। পিবিআই কর্তৃক মামলার তদন্তের নোটিশ প্রদান করা হয়েছে ফুলহরি ইউনিয়নের ফুলহরি গ্রামের আম্বিয়া খাতুন কে। এই মামলার নোটিশে তাকে মৌলভীবাজার জেলার পিবিআই অফিসে যেতে বলা হয়েছে। এই মামলার নোটিশ আসার পর বাড়িতে পুলিশ আসছিল এই পুলিশ দেখে আম্বিয়া হতবাক এবং কেঁদে কেঁদে অস্থির। ভয়ে জলসড়ো এখন কেউ গেলেই তাকে দেখে কান্নাকাটি করছে। বলছি বাবা আমি তো কিছু জানিনে আমার পুলিশ কেন ধরে নিয়ে যাবে?

আমি ওর সাথে কথা বলে জানা গেল যে গ্রামীন ফোনের মোবাইল সিম মাইকিং করে এক ব্যক্তি বিক্রয়ের জন্য এসেছিল। আম্বিয়ার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাকে বলে যে সিম নিলে টাকা লাগবে না ফ্রিতে সিম পাবেন। আম্বিয়ার একটা ভাঙ্গা মোবাইল আছে তাতে যদি সিম ভরে কথা বলা যায় সেজন্য আম্বিয়া তাদের কথায় রাজি হন। তারা তখন আম্বিয়ার ভোটার আইডি কার্ড এবং হাতের ফিঙ্গার নেয়। সাথে বিভিন্নভাবে কয়েকবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি নেই আর কার সাথে যেন কথা বলতে থাকে। তারপর আম্বিয়াকে বলে আপনার সিম পাবেন না কারণ আপনার ফিঙ্গার মিলছে না বলে তারা চলে যায়। আমি আর ফিঙ্গার মেলেনি বলেই আম্বিয়াস মোবাইল সিম পাইনি। এখন হঠাৎ গত কয়েকদিন আগে থানা থেকে একজন এসআই গেছে তার নামে সুনামগঞ্জে মামলা হয়েছে সে মোবাইল এর মাধ্যম দিয়ে বিকাশ রকেট এবং নগদ এর বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে প্রতারণা করে অনেক টাকা লেনদেন করেছে এই নোটিশ নিয়ে।

নোটিশ হওয়ার পর আম্বিয়া দিশেহারা হয়ে যে বাড়িতে কাজ করেন সেই বাড়ির মালিকের কাছে ছুটে যান তিনি হল ফুলহরি গ্রামের ইমতিয়াজ। তখন ইমতিয়াজ আম্বিয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করে। চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেয় যে আম্বিয়ার সাথে মৌলভীবাজার যেতে হবে তার হয়ে সাক্ষী দিতে। কিন্তু এই মানুষগুলো মৌলভীবাজারে যেতে হলেও তো টাকা লাগবে সেই ভাড়ার টাকা কে দেবে? আম্বিয়া পরের বাড়িতে কাজ করে এবং নিজের বাড়িঘর নেই জামাইয়ের বাড়িতে থাকে।

আম্বিয়ার এই প্রসঙ্গে কথা হল ফুলহরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের সাথে কথা বললে সে বলে যে এটা কেমন কথা যে সিম সে ক্রয় করেনি অথচ তার নামে সিম হয়ে গেল। এগুলো মোবাইল কোম্পানির সাথে যোগ সাজোর করে একশ্রেণীর অপরাধিরা যার তার নামে বিকাশ একাউন্ট করে এই প্রতারণা করে যাচ্ছে যার ফাঁদে পড়ে গেছে আম্বিয়া। এই ঘটনার সাথে গ্রামীণফোন কোম্পানির লোকজন জড়িত আছে। আমার ইউনিয়নের আমি একজন বয়স্ক এবং দরিদ্র নারী সে অন্যের বাড়িতে কাজ কাম করে খায় কিছুটা মানসিক রোগী সে। সে কিভাবে এই প্রতারণা করতে পারে আমার বিশ্বাস হয় না।

মৌলভীবাজার পিবিআই কার্যালয়ের পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র দাসের সাথে কথা বললে সে বলে যে ঘটনাটা কি ঘটেছে সেটা তদন্ত করার জন্যই আমরা নোটিশ পাঠিয়েছি তার নামে বিকাশ রকেট এবং নগদের একাউন্ট আছে যার মাধ্যমে ৪ লক্ষ দিক টাকা প্রতারণা করে লেনদেন করা হয়েছে। আদালত আমাদের প্রতি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্দিষ্ট দিনে যদি আম্বিয়া না আসতে পারে কিংবা অসুস্থ হয় তাহলে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিয়ে নিকটস্থ থানাকে জানিয়ে অন্য একজন আসতে হবে। আমরা তার কাছ থেকে বিষয়টা ভালোভাবে জানব। তার কাছ আগেই কয়েকজন ফোন করেছে কিন্তু মামলার স্বার্থে আমি তো কিছুই বলতে পারছি না। শুধু ফিঙ্গার নিলেই তো আর বিকাশ, নগদ, রকেট একাউন্ট হয় না। শুধু সে না এই ঘটনার সাথে আরো কয়েকজন আছে বলে তিনি জানান তবে মামলাটা হয়েছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ  বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।