মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের সুয়াপাড়া গ্রামে বিরোধপূর্ন জমি দখল, দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান ভূঁইয়া ও পরিবারের দাবি, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সুয়াপাড়া মৌজার ওই জমির ভোগদখলে রয়েছেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮০ শতাংশ জমি দলিলমূলে ক্রয় করেন। ৮ মাস আগে তিনি সেখানে একটি দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন। তবে বর্তমানে স্থানীয় আলিফ মাষ্টার ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক তাদের জমি দখল নিয়ে স্থাপনা তৈরি করেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে আলিফের পিতা আবু বক্কর মিয়া।
আব্দুর রহমান ভূঁইয়া পক্ষ অভিযোগ করে জানায়, ক্রয় সূত্রে সুয়াপাড়া মৌজায় ৮৪শতাংশ জমির মালিক তারা। তবে গত একবছর ধরে জমিটি দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতিপক্ষ। গত ৩০ আগস্ট (শনিবার) দুপুর ২টার দিকে আলিফ মাষ্টার ও তার শ্বশুর মো. বাবুলের নেতৃত্বে ১৫০-২০০ জন ভাড়াটে লোক দেশীয় অস্ত্রসহ এসে দোকানটি ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়, যার ফলে প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ সময় আরও দুটি বসতঘরেও হামলা চালানো হয় এবং আব্দুর রহমান ভূঁইয়া আহত হন। যার সিসিটিভিতে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে সেটিও গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এখন তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।সরজমিনে রবিবার দুপুরে দেখাযায়, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে স্থাপনা গড়ছে আলিফ মাষ্টার পক্ষ। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় সাবেক মেম্বার আক্তার শেখ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জমির মালিক আব্দুর রহমান এর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানান, গত শনিবার (৩০আগস্ট) দুপুর ২ টার দিকে আলিফ মাস্টার লোকজন নিয়া আমাদের দোকান ভাংচুর করে আমরা বাধা দিলে আমাদের লোকজনের উপরও হামলা চালায়। আমার স্বামী, ছেলে রাকিব ও ছেলের বউ জামিলা বেগম আহত হয়। এরপর রাতেও তারা আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আজ (৩১আগস্ট) সকাল থেকে পুলিশ পাহাড়ায় তারা আমাদের দোকান ভেঙে দোকান ঘর ও মালামাল নিয়ে যায় এবং আমাদের জমিতে জোরপূর্বক খুটি গেড়ে রাখে। তিনি আরো বলেন, গতকাল থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ আমাদের অভিযোগ নেয়নি। পরে ৯৯৯ এ ফোন দিলেও আমাদের থানার পুলিশ আমাদের সহায়তা করেনি।
এবিষয়ে আলিফ মাষ্টারের পিতা আবু বক্কর মিয়া দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, জমিটি আমাদের ক্রয়সূত্রে মালিক । আমি ৪২শতাংশের মত মালিক এর বাইরে আমার আর প্রয়োজন নেই। সাইদুর রহমান পক্ষ জমিকে ঘিরে আক্তার মেম্বার সহ তাদের কয়েকজনকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।এবিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল আলম বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধে সালিস বৈঠকে মারামারির ঘটনার খবর পেয়েছি। এঘটনায় আক্তার পক্ষের একটি মামলা হয়েছে। জমি দখলের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।