স্টাফ রিপোর্টার: আহত গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।তিনি বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা সবার জন্য সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য নুরকে দেশের বাইরে নেওয়া হবে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা ফোনে নুরের সঙ্গে কথা বলছেন এবং হামলার প্রতি সমবেদনা ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন।’শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা শক্তভাবে বলছি ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কোনো শক্তি নাই এটা প্রতিহত করার।’রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করার মতো পরিবেশ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনারা পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পরিসংখ্যান নেবেন। গত বছরের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলনা করে দেখবেন; পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে কিনা। আমরা কিন্তু পুলিশকে জানিয়েছি, তারা যেন নিয়মিত পরিসংখ্যান দেয়। আমরা মনে করি, সামনে নির্বাচন হওয়ার মতো যথেষ্ট পরিবেশ আছে। নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হবে।’
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান। গতরাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের সময়ের সাহসী কণ্ঠস্বর গণ অধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুরের ওপর বর্বরোচিত এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রনেতা হিসেবে নুর ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে তিনি এক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।’
শফিকুল আলম বলেন, সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নুর ও তার সংগঠন জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তারা গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও মর্যাদার জন্য চলমান লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিল।গতকাল তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নুরকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছিল। এটি শুধু কেবল মৌলিক মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন ছিল না, বরং এটি ছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের হাতে জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার ওপর সরাসরি আঘাত।’শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিত, কর্তৃপক্ষ এই হামলার তদন্ত করবে।’