

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি: স্থানীয়দের আর্তনাদ: “স্থায়ী বাঁধ চাই, নইলে বিলীন হবো মানচিত্র থেকে” মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের জনপদগুলো দিন দিন পদ্মার ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই সরিষাবন গ্রাম পুরোপুরি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। আর এবার একই পরিণতির মুখোমুখি কান্দারবাড়ি গ্রাম। প্রতিদিনই ভাঙনের ভয়াল থাবায় বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও জীবন-জীবিকা হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কয়েকশো পরিবার এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেই, ক্ষোভ স্থানীয়দের
নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তেমন কিছুই করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, ভাঙন ঠেকাতে এখনো পর্যন্ত জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি। অথচ প্রতিদিনই মাটি গড়িয়ে পড়ছে পদ্মার স্রোতে, আর হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবনের সবকিছু।
কান্দারবাড়ির প্রবীণ বাসিন্দা খলিল বেপারী বলেন,
"সরিষাবন গ্রাম চোখের সামনে নদীতে মিলিয়ে গেল। আমরা ভেবেছিলাম এবার হয়তো আমাদের গ্রামটা বাঁচাতে সরকার এগিয়ে আসবে। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। প্রতিটি মুহূর্তে ভয়ে কাটাচ্ছি—আজ নাকি কাল আমাদের ঘরও নদীতে ভেঙে যাবে।"
আতঙ্কে কয়েকশো পরিবার, ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য অনেকে
কান্দারবাড়ির প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার আগেভাগেই তাদের আসবাবপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্র অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ গবাদি পশু বিক্রি করে দিয়েছেন ক্ষতির ভয় এড়াতে। অন্যদিকে, যারা যাওয়ার মতো জায়গা পাচ্ছেন না, তারা দিনরাত স্রোতের শব্দ শুনে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় গৃহবধূ আমেনা বেগম বলেন,
"আমাদের মসজিদ, মাদ্রাসা —সবকিছুই হুমকির মুখে। বাচ্চাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে। আমরা কোথায় যাবো, কে আমাদের আশ্রয় দেবে? একমাত্র সমাধান হলো স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ।"
কান্দারবাড়ি গ্রাম দিয়ে ৩৩ কেভি (বোল্ট) বিদ্যুতের লাইন সংযুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন। এলাকাটি নদীগর্ভে চলে গেলে এই বিদ্যুৎ সুবিধাও ঝুঁকির মুখে পড়বে। এছাড়া এলাকায় একটি নতুন সাইক্লোন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, যা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হবেন।
স্থায়ী বাঁধ ছাড়া সমাধান নেই
নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু জিও ব্যাগ ফেলা হলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর কোনো ফলাফল আসবে না। এখানে স্থায়ী বাঁধ বা টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া কান্দারবাড়ি গ্রাম রক্ষা করা যাবে না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকার সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, প্রতিবারই ভাঙনের মৌসুমে আশ্বাস দেওয়া হয়, কিন্তু কাজ হয় না। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে তারা বিষয়টি জানে, কিন্তু কবে নাগাদ স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট তথ্য নেই।
এখন কান্দারবাড়ি গ্রামবাসীর একমাত্র দাবি, দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে তাদের গ্রাম রক্ষা করা। নইলে সরিষাবনের মতো কান্দারবাড়িও অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭