

টঙ্গীবাড়ি প্রতিনিধি: তাহলে কি বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন মুন্সীগঞ্জের তরুন সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন?? এমনটাই বলে বেড়াচ্ছেন মুন্সীগঞ্জের সকল শ্রেণী পেশার জনগন । তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ মেরুদন্ড ক্যান্সারে ভুগছেন। মরনবেধি এ রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে আজ সে নিংশ্ব প্রায়। ঢাকার পিজি হাসপাতালে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. সারোয়ার আলম এর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে তার। প্রতি ২১ দিন দিন পর পর ক্যামো দিতে হয় তাকে এতে খরচ হয় প্রায় ৯০,০০০/ টাকা। তাছাড়া এ চিকিৎসার বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে গিয়ে ব্যয় হচ্ছে অনেক টাকা। অসুস্থতার কারণে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে তার। দীর্ঘদিন চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে বর্তমানে তার দিন কাটছে অর্থকষ্টে। ফলে তিনি দেশ ও বিদেশে থাকা দেশবাসীর কাছ থেকে অর্থ সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন মুন্সীগঞ্জের লেখক ও সাংবাদিক মহলে বেশ পরিচিত মুখ। বিক্রমপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে লেখালেখি আর গবেষণায় বর্তমান সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন অন্যতম। বিক্রমপুরের আঞ্চলিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা ও লেখালেখিতে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ লেখকদের মধ্য শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন অন্যতম। তিনি দীর্ঘদিন সাপ্তাহিক বিক্রমপুর চিত্র পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর লেখক ফোরামের সহ সভাপতি পদে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালের দিকে তিনি সাংবাদিকতা ও সাহিত্য জগতে প্রবেশ করেন তিনি। কলেজে পড়াকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনে জড়িয়ে পড়েন। আর্তমানবতার কল্যাণে কাজ করার মানুষ তিনি বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাথে সম্পৃক্ত হন। এসময় তিনি টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল গ্রামে উদয়াচল নামক একটি সামাজিক সংগঠনের সাথেও যুক্ত হন। ২০১১ সালে তার বেশ কিছু ছোট গল্প ও কবিতা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তা পাঠক মহলে বেশ সমাদৃত হয়। তিনি সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন বিক্রমপুরের ইতিহাস নিয়ে। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিক্রমপুরের ইতিহাস নিয়ে এ পর্যন্ত তার প্রায় এক হাজার ফিচার ছাপা হয়েছে।
তিনি ১৯৯১ সালের ১৫ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বানারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা বাবুল শেখ ও মাতা রাশিদা বেগম। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন বড়। রাসেল বানরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে বানরী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও ঢাকার সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে শিক্ষা জীবন শেষ করেন।
এছাড়াও তিনি বিক্রমপুরের সোনারং গ্রামের কৃতি সন্তান সত্যেন সেনের প্রতিষ্ঠিত উদীচী সংগঠনের সাথেও জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি টংগিবাড়ী থানা জনকল্যাণ সংঘ ও পাঠাগারের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন তিনি টংগিবাড়ী প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মাসিক বিক্রমপুর, আমার বিক্রমপুর, মুন্সিগঞ্জ টাইমস, বিক্রমপুর চিত্র, মুন্সীগঞ্জের খবর, মুন্সিগঞ্জের বার্তা, বাংলার বর্ণমালা, দি নিউজ স্টেশন পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। এছাড়াও জাতীয় দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার টংগিবাড়ী উপজেলা প্রতিনিধি ছিলেন। সামাজিক নানাবিধ কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ও বিক্রমপুরের ইতিহাস নিয়ে লেখালেখির কারণেই মূলত মুন্সীগঞ্জের অনেকের কাছে তিনি বেশ জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ। হঠাৎ করে ২০২৩ সালের শেষের দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। নানাবিধ পরী¶া নিরিক্ষার পর তার দুরারোগ্য মেরুদণ্ডের ক্যান্সার ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তেরটি রেডিওথেরাপি ও ছয়টি কেমোথেরাপি নিয়েছেন। আরো ৪টি কেমোথেরাপি নিতে হবে। ২১ দিন পর পর কেমোথেরাপি নিতে হয়। অসুস্থতা জনিত কারণে আড়াই বছরে তিনি প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ টাকার উপরে চিকিৎসা ব্যয় করেছেন। বর্তমানে আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি একা তাঁর চিকিৎসা খরচ চালাতে পারছেন না। তাই সমাজের সবার কাছে তিনি আর্থিক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে শেখ রাসেল ফখরুদ্দিন বলেন, আমি সাংবাদিকতা ও লেখালেখির পাশাপাশি পুরান ঢাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম। দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে আমার ব্যবসা এখোন বন্ধ হয়ে আমি কর্মহীন। একদিকে আমার চিকিৎসা ব্যয় অন্যদিকে আমার পরিবার সম্পূর্ণ আমার উপর নির্ভর হওয়ায় সংসারের ব্যয় মিটাতে হিমশিম খাচ্ছি। আমি ইতিমধ্যে ১৩টি রেডিওথেরাপী ৭ টি ক্যামেথ্যারাপী নিয়েছি। আমার নিকট আত্মীয় ও পারা প্রতিবেশীদের কাছ হতে ধারদেনা করে চিকিৎসা ব্যয় চালিয়ে যাচ্ছিলাম কিন্তু এখোন আমার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছেনা। আমার ছোট একটি ছেলে, বৃদ্ধ মা ভাই ও স্ত্রী রয়েছে। ৫ সদস্যের পরিবারটি আমার অসুস্থতার কারনে এখোন আমরা সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পরেছে।এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী প্রেসক্লাব সভাপতি মুজাফ্ফর হোসেন বলেন, শেখ রাসেল ফখরুদ্দীন একজন উদীয়মান লেখক ও সাংবাদিক। বিক্রমপুরের ইতিহাস নিয়ে বর্তমানে সে সবচেয়ে বেশি গবেষণামূলক লিখা লেখে থাকেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এখোন সে সর্বস্ব খুইয়ে নিংশ প্রায়। অর্থ-অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেনা। তার চিকিৎসায় সকলকে আগিয়ে আশার আহবান জানাই।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭