উপজেলা প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার তেকানী ইউনিয়নের চর পানাগাড়ী বাজার থেকে মাত্র ২০০ মিটার দক্ষিণে মেইন রাস্তার ধারে, এবং তেকানী ইউনিয়ন পরিষদের সামান্য উত্তরে প্রতিদিন বসে চা বিক্রি করেন আল আমিন ভুঁইয়া। তার ছোট্ট দোকানটি এখন শুধু আড্ডার কেন্দ্র নয়, বরং এলাকার মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার এক প্রতীক।
জীবনের শুরুতে আল আমিন ছিলেন ঢাকার এক গার্মেন্টসকর্মী। কিন্তু এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় তার জীবন থমকে যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান, দাঁতের বেশিরভাগই ভেঙে যায়। দুর্ঘটনার পর আর আগের মতো চাকরিতে ফিরতে পারেননি।তবুও হাল ছাড়েননি আল আমিন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়ে তিনি চায়ের দোকান দিয়েই নতুন জীবন শুরু করেন। তার দোকান মূলত বিকেল ২টা থেকে রাত ১১–১২টা পর্যন্ত খোলা থাকে।তবে বিক্রি শুরু হয় মাগরিবের নামাজের পরে থেকে।
দোকানে দুই ধরনের চা পাওয়া যায়—রং চা ৫ টাকায়, দুধ চা দুই রকমের: একটি ১৫ টাকা, অন্যটি ২০ টাকায়। এই স্বল্পমূল্যের চা দিয়েই তিনি এলাকার মানুষের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।আল আমিন ভুঁইয়ার দুই সন্তান। মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন, আর ছেলে সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সন্তানের এই সাফল্যে আবেগাপ্লুত আল আমিন বলেন, “আমি দুর্দান্ত খুশি, ছেলে পাশ করেছে—এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”
পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের নাটুয়ারপাড়া, চরগিরিশ, খাসরাজবাড়ি, নিশ্চিন্তপুর ও রূপসা থেকেও প্রতিদিন বহু মানুষ তার দোকানে চা খেতে আসেন।একাধিক ক্রেতা জানান, “আমরা অনেক দূর থেকে আল আমিন ভুঁইয়ার দোকানে আসি। তার হাতের চায়ের স্বাদ আলাদা, একবার খেলেই আবার আসতে মন চায়।”অথচ বাস্তবতা হলো—অনেকে সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ হয়েও কাজ করতে চান না। সেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে দাঁড়িয়ে থাকা আল আমিন ভুঁইয়া আজ চরাঞ্চলের সেরা চা দোকানি, পাশাপাশি সবার কাছে এক অনুপ্রেরণার মানুষ।

