রংপুর প্রতিনিধি: “শিশুর হাসি ফিরিয়ে আনি, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম রুখি”—এই প্রতিপাদ্যে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এক দৃষ্টান্ত মূলক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলো। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) উপজেলা মাল্টিপারপাস কাম অডিটোরিয়াম হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা। এই উদ্যোগের মূল আয়োজক ছিল ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এবং সহযোগিতায় গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রশাসন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমি আক্তার। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও বলেন, “আগামী প্রজন্মকে সুস্থ, শিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এবং কল্যাণমূখী রাষ্ট্র গঠনে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম প্রতিরোধ করা জরুরি। বাল্যবিবাহ দুর্বল জাতি তৈরি করে, আর শিশুশ্রম শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে বড় বাধা।”পরে তিনি উপস্থিত সবাইকে শপথ বাক্য পাঠ করান এবং গঙ্গাচড়া, কোলকোন্দ, লক্ষীটারী, গজঘন্টা ও মর্ণেয়া ইউনিয়নকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করেন। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা হাতে লাল কার্ড তুলে ‘না বলুন বাল্যবিবাহকে’ স্লোগান দেন এবং শিশুশ্রম বন্ধের অঙ্গীকার প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহফুজার রহমান, থানার অফিসার ইনচার্জ আল এমরান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোসাদ্দেকুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু সৈয়দ আরিফ মাহফুজ, সমবায় কর্মকর্তা আবতাবুজামান চয়ন,গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান (দুলু), কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম ও গজঘন্টা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বকুল মিয়া। উপজেলা প্রেসক্লাবের আহবায়ক আব্দুল আলীম প্রামাণিক, গঙ্গাচড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সাজু আহমেদ লাল, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের এডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর তানজিমুল ইসলাম, সিনিয়র ম্যানেজার সুজিত কস্তা, এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার লিওবার্ট চিসিম প্রমূখ।
এছাড়া শিক্ষক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া কিশোরী মিশুমনি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, আর শিশুশ্রম থেকে শিক্ষা জীবনে ফেরা শিশু রায়হান বাবু তার জীবনের গল্প শোনায়, যা উপস্থিতদের আবেগাপ্লুত করে।শেষে উপস্থিত সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, যাতে পুরো গঙ্গাচড়া উপজেলাকে ধীরে ধীরে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমমুক্ত করা যায়।

