রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ২০৩ জন আবেদন করলেও, ৮ টি আবেদন প্রাথমিক বাছাইয়ে বাতিল হলে ১৯৫ টি আবেদন অবশিষ্ট থাকে। আবেদনকারীদের মধ্যে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মোট ৩৩ জনকে নিয়োগ দেয়ার কথা থাকলেও, লটারির মাধ্যমে মাত্র ৪টি কেন্দ্রে ডিলার নির্বাচিত হয় এবং যাচাই – বাছাইয়ে সকলকে বাতিল দেখিয়ে একক নির্বাচিত হয় ১৯ জন এবং ৮টি কেন্দ্রে যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় ১০ জন ডিলার পূন:রায় নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা যায়। খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বাতিল হওয়া আবেদনকারীরা বলেন, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ব্যক্তি স্বার্থে মন মতো ডিলার নিয়োগ ও নির্বাচন কার্যক্রম সম্পূর্ণ করেছেন ।
এ বিষয়ে নিয়োগ কমিটির সদস্য ও গঙ্গাচড়া প্রেসক্লাব সভাপতি সাজু আহমেদ লাল বলেন, সব গুদাম দেখা সম্ভব হয়নি, কাছাকাছি কয়েকটা দেখেছি।
সমাজসেবা কর্মকর্তা মোসাদ্দেকুর রহমান বলেন, আমি কমিটিতে আছি কিন্তু কোন ডিলারের গুদাম দেখার জন্য যাইনি এবং ক্রুটিপূর্ন আবেদনের কাগজ গুলো আমি নিজেও সেভাবে দেখিনি।
পরিসংখ্যান কর্মকর্তা রাজিব ঘোষ বলেন,আমি নিয়োগ কার্যক্রমের শুরুতে ছিলাম না। জুন ক্লোজিং এর জন্য ব্যস্ত থাকায় ডিলারের গুদাম দেখা সম্ভব হয়নি, তিনি আরও জানান কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের অনুমতি ছাড়া নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সায়েদ বলেন, আমি জানি শুরুতেই কেন্দ্র বিহীন আবেদনের জন্য ৮ জনকে বাতিল করা হয়েছে। দাপ্তরিক কাজের চাপে গোডাউন পরিদর্শন সহ ত্রুটিপূর্ন কাগজ পত্র ভালো ভাবে দেখার সুযোগ হয়নি, খাদ্য অফিস সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ করেছে , এ বিষয়ে আসলে বিশেষ কিছু জানি না , নীতিমালাও আামার জানা নেই, আমি কমিটির সদস্য হিসেবে শুধু স্বাক্ষর দিয়েছি।
কৃষিবিদ সৈয়দ শাহিনুর ইসলাম বলেন, গোডাউন পরিদর্শনে যাইনি। খাদ্য অফিসও চিঠির মাধ্যমে পরিদর্শনে যাওয়ার কথা জানায় নি, কমিটিতে রাখার দরকার তাই ছিলাম। পরিপত্র দেখা হয়নি, এ বিষয়ে খাদ্য কর্মকর্তাই ভালো জানেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৩৩ জন ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত ১৮ (আগস্ট) ২০২৫ ইং লটারি ও একক নির্বাচিত ফলাফল প্রকাশের কথা থাকলেও তার আগেই ফল ফাঁস হয়ে যায়। এতে নিয়োগ নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করেন বঞ্চিত আবেদনকারীরা। ১৮ (আগস্ট)দুপুরে চারটি কেন্দ্রে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হন,চৌধুরীহাট কেন্দ্র: মো. আমির আলী,ঠাকুদহ বাজার কেন্দ্র: শাহিন আলম,
নোহালী ইউনিয়নের বাগডোগরা কেন্দ্র: মশিউর রহমান ,বড়াইবাড়ি হাট কেন্দ্র: সামসুল আরেফিন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক বরাবর নূরুজ্জামানসহ কয়েকজনের লিখিত অভিযোগে তারা বলেন, দ্রুত তদন্ত করে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ,দূর্ণীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে দেয়া খাদ্য বান্ধব ডিলার নিয়োগ বাতিল করে, পূনরায় স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের জন্য পূণ:বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা উম্মে কুলসুমা খাতুনের সঙ্গে কথা বললে, তিনি জানান আমি নিজেই প্রতিটি কেন্দ্রের গোডাউন পরিদর্শন করেছি। গোডাউনের স্টাম্পের ফটো কপির সঙ্গে মুল কপির মিল পেয়েছি, যদি কারো অভিযোগ থাকে তাহলে সকল অভিযোগ নিয়ে ডিসি ফুড স্যারের কাছে যান। আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন আামি করেছি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, পদাধিকার বলে আমি নিয়োগ কমিটির সভাপতি। ডিলার নিয়োগ ও তদন্ত কার্যক্রমের গড়িমসি বিষয়ে একাধিক লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে সেগুলো পাঠিয়েছি। নির্দেশক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ছালেহ আজিজের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনে পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসক রবিউল ফয়সাল বলেন,খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার নিয়োগ পরিপত্রে উল্লেখিত, ” নতুন ডিলার নিয়োগ না পাওয়া পর্যন্ত পুরান ডিলারদের মাধ্যমে কর্মসূচী পরিচালিত হবে। “এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়ে উপজেলা কমিটির সাথে কথা বলেন, তারাই ব্যাখ্যা দিবেন।
খাদ্য অধিদপ্তরের ইনস্ট্রাক্টর ( প্রশিক্ষণ বিভাগ) -এর মো: সাহিদার রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আপনি পরিপত্রের বিষয়ে পরিচালক মহোদয়ের সাথে কথা বলেন,তিনি ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের চলতি দায়িত্বে থাকা আবু জাফরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আইনের কোন ব্যাত্যয় ঘটলে ক্ষতিগ্রস্থরা জেলা কমিটির সাথে যোগাযোগ করেন। আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা সেটা ঘতিয়ে দেখব।
খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক আব্দুস সালাম বলেন, বিভাগীয় কমিশনার পদাধিকার বলে এই কর্মসূচির সভাপতি। অভিযোগের বিষয়ে আপনারা তাঁর সাথে যোগাযোগ করেন।

