

মো: শাকিল শেখ (সাভার ও ধামরাই) প্রতিনিধি: সারা দেশসহ রাজধানী ও সাভারে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে চলছিল সরকারের পতনের এক দফা দাবিতে ছাত্র-জনতার দুর্বার আন্দোলন। সেই আন্দোলনে অংশ নেন ছাত্রদল নেতা আহমেদ ফয়সাল (২৬)। তার লক্ষ্য ছিল যেকোনো মূল্যে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানো। তবে আন্দোলনে যোগদানের মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পুলিশের ছোড়া প্রায় ৩৬টি ছররা গুলি তার শরীরের হাতপা-মাথাসহ কাঁধ পর্যন্ত বিদ্ধ হয়। এরপর জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ফয়সাল।
এই শরীরে গুলি নিয়ে যন্ত্রণা আর দুর্বিষহ জীবন-যাপন করছেন সাভার বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফয়সাল। এরপরেও এখনো পিছু হঁটেননি দলীয় কার্যক্রম পালন করতে। দলীয় নির্দেশনা মানতে বীর দর্পের ন্যায় রাজপথে ছুঁটে চলছেন এই ছাত্রদল নেতা। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের আমলে একাধিকবার জেলও খেটেছেন তিনি। দলের জন্য জীবন দিতে হলেও দিবেন, তবুও পিছু হটবেন না তিনি।সাভার পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের নামা গেন্ডা মোল্লা মার্কেট এলাকার সাভার পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো.ফজলুল হক ফালানের ছেলে আহমেদ ফয়সাল। বর্তমানে তিনি সাভার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
আন্দোলনে আহত আহমেদ ফয়সাল জানান, শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে আন্দোলনটি গড়ায় সরকার পতনের দাবিতে। ওই আন্দোলন দমাতে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং পুলিশ নির্বিচারে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালাতে থাকে। ৫ই আগস্ট তিনি যখন সাভার থানা স্টান্ড এলাকায় যায় সেমসয় মুক্তির মোড় এলাকা থেকে পুলিশ বাহিনী রাবার বুলেট,টিয়ারসেল,ছররা গুলি করতে থাকলে এসময় আইলেন টপকে দৌড় দিলে একাধিক ছররা গুলি আমার শরীরে বিদ্ধ হয়। এমসয় প্রাণ যায় অনেকের। আমিও নিজেকে আর থামাতে পারিনি। কিন্তু মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ছররা গুলিতে আমার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।
ফয়সাল আরও বলেন, অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমাকে অন্য আন্দোলনকারীরা উদ্ধার করে সাভার স্পেশালিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান।সেখানে চিকিৎসকরা তখন কেবল অপারেশন করে ১৫টি গুলিই শরীর থেকে বের করা যায়।অতএব হাসপাতালে চিকিৎসার পরও এখনো শরীরের বামপাশের পা থেকে কাঁধ পর্যন্ত অন্তত ২১টি গুলি রয়ে গেছে।বর্তমানে সাভার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফয়সাল প্রচণ্ড যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন ব্যথার ওষুধ খেয়ে থাকতে হবে।
তার বাবা মো.ফজলুল হক ফালান বলেন, আন্দোলনে অংশ নিয়ে আজ আমার ছেলের এ অবস্থা।এখনো আমার ছেলের শরীরে গুলি রয়েছে। সেই যন্ত্রণায় সে ছটফট করে। ব্যথার ওষুধ খেয়ে কোনোরকমে বেঁচে আছে।আমি আর কতদিন তার পরিবার চালাব? আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, আমার ছেলের উন্নত চিকিৎসা ও তার পরিবারটির ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর সরকার বলেন,ছাত্রজনতার ‘আন্দোলনে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তাদের জন্য সরকারি বরাদ্দ এরই মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও যদি কোনো সরকারি সহায়তা আসে,সেটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭