

ফজলে হাসান (রাবি) প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বৃত্তির টাকা পেতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, যে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বৃত্তির টাকা ছাড়ে গড়িমসি করছেন এবং শিক্ষার্থীদের অনবরত অফিসে ঘোরাতে বাধ্য করছেন।শিক্ষার্থীরা জানান, সময়মতো আবেদন করেও মাসের পর মাস ধরে তারা বৃত্তির টাকা পাননি। অফিসে গিয়ে খোঁজ নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, সামান্য একটি ভুল তথ্যের জন্য পুরো আবেদনপত্র বাতিল করে দেওয়া হয়, অথচ সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয় না।
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের মুশফিক সরকার নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমি ২ মাস আগে আবেদন করেছি, কিন্তু এখনো টাকা পাইনি। উপবৃত্তির টাকা নিয়ে এতো ঝামেলা হয়,এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু প্রশাসনিক কর্মচারী যে শিক্ষার্থীদের এতটা হয়রানি করতে পারে—তা নিজে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না।তিনি আরো বলেন,ঘটনাটা শুরু হয় প্রশাসনিক ভবনের ১২৭ নম্বর রুম থেকে।এই রুমে আছেন ৪ জন কর্মচারী—৩ জন পুরুষ ও ১ জন মহিলা। প্রথম দিন গিয়ে কাগজপত্র দেখানোর পর একজন কাগজ ধরিয়ে দিয়ে বললেন, “ডিপার্টমেন্টে নিয়ে যাও।”তারপর জানিয়ে দিলেন, তারা নাকি মিটিংয়ে ব্যস্ত!
তাড়াতাড়ি রুম ছেড়ে দিতে বললেন—মনে হলো, আমাদের উপস্থিতিই তাদের বিরক্তির কারণ।ওই রুমের যিনি মহিলাকর্মী, উনি প্রায়ই ভিডিও কলে ব্যস্ত থাকেন। উনার আচরণ দেখে মনে হয় না উনি কখনো শিক্ষার্থীদের জন্য সময় দেন।রুমে রাখা টেবিল-চেয়ারগুলো এত ধুলায় ভরা—দেখেই বোঝা যায়, সেখানে কখনো কাউকে বসিয়ে সাহায্য করা হয় না।আসিয়া খাতুন নামের আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, “এইচএসসি বোর্ড বৃত্তির সর্বশেষ ইনস্টলমেন্টের টাকা পাই নি। মেরে দিয়েছে"
তিনি আরো বলেন,আমি বৃত্তির বিষয়ে একাধিক কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে গিয়ে যখন বলি তাহলে আমাদের প্রতিকার কি, সে বলেছে যে কোনো প্রতিকার নাই।পরে আবার আমরা কয়েকজন বেশ কয়েকদিন গিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে চলে এসেছি।কর্মকর্তার দুর্ব্যবহার ও অবহেলার কারণে শত শত শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ এই বৃত্তির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।”বিষয়টি নিয়ে রাবির উপ উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন দৈনিক ভোরের খরব কে বলেন, “আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি। ভোক্তভোগীর কেউ যদি সুনিদিষ্টভাবে লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরো বলেন, আমি ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান থাকাকালীন দেখেছি আমাদের অনেক কর্মকর্তা একটু হয়রানি করে।যেটা একদিনের কাজ সেটা তিন বা তার বেশি ঘুরানো হয়। এখন যেটা দরকার সেটা হচ্ছে লিখিত অভিযোগ, সেটা পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “অনেক সময় কাগজপত্র ঠিক না থাকায় ও সময়মত আবেদন না করায় বিলম্ব হয়,।সেটা তাদের সুন্দর ভাবে বুঝিয়ে বলা হয়। ইচ্ছাকৃত কোনো হয়রানি করা হয়নি।” তাছাড়া তাঁদের সাথে বৃত্তির বিষয় নিয়ে আমাদের কোনো কাজ নাই,আমাদের কাজ ডিপার্টমেন্টের সাথে।আমরাবৃত্তির বিষয়ের সকল কিছু ডিপার্টমেন্টে পাঠিয়ে দেই,ডিপার্টমেন্ট আমাদের যাঁদের নাম দেয় তাঁরা এমনি টাকা পায়। তবুও কেউ আমাদের এখানে আসলে তাকে বুঝিয়ে বলা হয়।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭