রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পাকুড়িয়া শরীফ বসুনিয়াপাড়ায় পৈত্রিক জমিতে বসতবাড়ি সংস্কারের সময় জমি দখলের চেষ্টায় প্রাণনাশের হুমকি ও মারধরের শিকার হয়েছেন মোঃ ফরিদুল হক (৬৮) নামে এক ব্যক্তি। এ ঘটনায় তিনি গঙ্গাচড়া মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন কুমিল্লায় ছিলেন। এই সুযোগে স্থানীয় কয়েকজন ভূমি লোভী ব্যক্তি তার পৈত্রিক জমি ভুলবসত আরএস রেকর্ড পাওয়ায় ক্ষমতা দেখিয়ে দখলের পাঁয়তারা করে। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলয় ভুক্তভুগী রায় পেলেও, সম্প্রতি দখলদারগণ হুমকি-ধমকি ও শক্তি প্রয়োগে জমি দখলের চেষ্টায় লিপ্ত হয়।
গত ১৭ জুলাই দুপুরে ফরিদুল হক নিজ বসতবাড়ি সংস্কারের সময় পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক আটজন ব্যক্তি লাঠি-সোঠা নিয়ে জমিতে হাজির হয় এবং তাকে জায়গা ছেড়ে দিতে বলে। প্রতিবাদ করলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও মারধরের হুমকি দেয়। এর মধ্যে একজন নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে ভয় দেখায় যে, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে জেলের ভাত খাওয়াবে, মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলেও হুমকি ধমকি দেয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয় বেশ কয়েকজন প্রতিবেশী ছুটে এসে তাকে রক্ষা করে। অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, এই জমি যেকোনো সময় দখল করে নেবো। বাধা দিলে মারধর করবো, ষড়যন্ত্র করে মামলা দেবো, এমনকি সুযোগ পেলে খুন করে লাশ গুম করবো।
ফরিদুল হক আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বড় ধরনের সংঘর্ষ, রক্তপাত কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে থানায় অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় জিয়ারুল হক বলেন, আমি লোক মুখে শুনতে পেয়ে এসে দেখি মোফাজ্জলের নাতিপুতিরা ফরিদুলকে ঘর তুলতে বাঁধা দিচ্ছে। পরে মোফাজ্জলের নাতি সিফাত নিজে পুলিশ হওয়ায় পুলিশের ক্ষমতা দেখিয়ে নানা রকম হুমকি ধমকি দিচ্ছে। বেশি বারাবাড়ি করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেয়।
রাশেদা বলেন, এটা বাপ দাদার সম্পত্তি। এই জমিকোনার জন্য ভাইকোনা কেসোতে শ্যাষ হয়য়া গেল। উপায় না পেয়া কুমিল্লা কামোত গেল। মোফার নাতি সিফাত পুলিশের চাকরি করে, সে পুলিশ ধরি আসি অন্যায়ভাবে হামার ভাতিজা কোনাক মারি গেইছি।একই এলাকার বৃদ্ধ আফসার আলী বলেন, হামরা গ্রামবাসি , হামরা দেখি আসি চোল সতের -আঠার বছর থাকি ফরিদুল বাড়ি করি আছে আবাদ করে। অ্যালা ফির শুনি চোল মোফার নাতিরা ফরিদুলের উপর থানাত একটা মিথ্যা মামলা দিছে।
প্রতিবেশী হাফিজুল বলেন, ওদের পৈতৃক সম্পত্তি। পরিদের দাদাী মাইবি বিবির সম্পত্তি। সবার ভাগ বেচাইছে। ফরিদের ভাগ আছে। হঠাৎ করি মোফার নাতি সিফাত পুলিশের চাকরি করে। সে আসিয়া হুমকি দেয় জমি ছাড়ি দিব্যার কয়।মোফার নাত বউ মোতমাইনা বলেন, মোর নাম মোতমাইনা। ঘটনা তো ওইটা। তমিজ মুন্সির ভুঁই। মোফা কাপরিয়ার কাছে বেঁচাইছে। ভূল করি অন্য দাগ উঠছে, এখন ওমরা ভূঁই ওমারে টে আছে।
মোফাজ্জলের মেয়ে মন্জুয়ারা বলেন, বাপ তো জমি খাইছে। এখন দাগ ভুল হয়া অ্যালা এইগলা হয় চোল।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জমি-সংক্রান্ত একাধিক মামলা গঙ্গাচড়া সহকারী জজ আদালতে চলমান রয়েছে, যেগুলোর রায় ও ডিক্রির কপি তিনি থানায় জমা দিয়েছেন।পাশাপাশি ভূল বশত হওয়া রেকর্ড সংশোধনী মামলাও চলমান রয়েছে।এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয়েছে। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

