রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে ‘ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ প্রেজেন্টস তিন দিনব্যাপী ৮ম আরইউএসসি ন্যাশনাল সায়েন্স ফিয়েস্টা ২০২৪’ শুরু হয়েছে।এবারের বিজ্ঞান মেলায় রাজশাহীর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (টিএসসিসি) সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব বেলুন উড়িয়ে ফিয়েস্টার আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন। একইসময় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, রাবির পতাকা এবং রাবি সায়েন্স ক্লাবের পতাকা উত্তোলন করা হয়।পরে মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রফেসর ইমেরিটাস ড. এ কে এম আজহারুল ইসলাম, উদ্বোধক হিসেবে ছিলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ হাসান নকিব। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ মাঈন উদ্দিন ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে ক্লাবের উপদেষ্টা মণ্ডলী এবং ক্লাবের সাবেক এবং বর্তমান সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।উদ্ধোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ এবং ধারাবাহিকভাবে হচ্ছে। আমি প্রোজেক্টগুলো ঘুরে দেখলাম। খুবই ইনোভেটিভ। আমি মনে করি এই উদ্যোগ সামনের দিনগুলোতে আরো শক্তিশালী হবে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান চর্চার স্পৃহা সাইন্স ক্লাব ইতিমধ্যে বাড়িয়ে তুলেছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে আরো বড় ভূমিকা পালন করবে।রাবি সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি মাসুদ বলেন, ‘আমরা সবসময় চেষ্টা করি বিজ্ঞানধর্মী আয়োজন করার জন্য। বাংলাদেশ থেকেই নিউটান বা বর্তমান সময়ের ইলন মাস্ক হওয়া সম্ভব। সেই সুযোগ আমাদেরকেই তৈরি করে দিতে হবে। বাংলাদেশে অনেক কিছু নিয়েই আমরা কাজ করি কিন্তু বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের আগ্রহ কম।তিনি আরো বলেন, আমরা বইরের দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখতে পাই কত উন্নত তারা। এর মূল কারণ সেই দেশগুলোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দিকে নির্ভরশীলতা। বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে তুলে ধরতেই আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দিকে বেশি সুযোগ তৈরি করতে হবে।ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে দেখার জন্যই আমরা এই আয়োজন করে থাকি।বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি গত দুই বছর ধরে সায়েন্স ক্লাবের সাথে যুক্ত আছি। এখানে বিভিন্ন ধরনের সেগমেন্টে থাকে। শিক্ষার্থীরা তাদের ইচ্ছা মত বেছে নেওয়ার সুযোগ পায়। নিজেদের প্রতিভা, জ্ঞান বিকাশের একটা সুযোগ পায় আমরা। দিনদিন বিজ্ঞান মেলার পরিসর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমি খুবই গর্বিত এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পেরে।এবারের বিজ্ঞান মেলায় মোট ১৩টি সেগমেন্ট থাকছে। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে, সায়েন্স অলিম্পিয়াড, কেইস সলভিং, সায়েন্টিফিক পেইন্টিং কম্পিটিশন, ওয়াল ম্যাগাজিন, সায়েন্টিফিক ডিবেট, পোস্টার প্রেজেন্টেশন। এছাড়া এর বাইরে থাকছে মোবাইল অ্যাপ আইডিয়া কম্পিটিশন, রুবিক্স কিউব, এআই বেইসড বিজনেজ আইডিয়া কম্পিটিশন, দাবা প্রতিযোগিতা, ফটোগ্রাফি কনটেস্ট। যাতে সবাই অংশগ্রহন করতে পারবেন।এবারের মেলায় টাইটেল স্পন্সর হিসেবে থাকছে ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ, স্ট্রেটেজিক পার্টনার হিসেবে থাকছে বিডিএপস, ব্রোঞ্জ স্পন্সর উত্তরায়ন আমানা সিটি, স্ন্যাক্স পার্টনার যুক্ত হয়েছে বোম্বে সুইটস, লার্নিং পার্টনার ওলিন এআই, মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যমুনা টেলিভিশন ও দ্যা বিজনেস স্ট্যান্টার্ড এবং দিনকাল, কমইউনিটি পার্টনার জেসিআই ঢাকা ওয়েস্ট।