রাবি প্রতিনিধি: টেড এক্স রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় “আনলিশিং পটেনশিয়াল” থিম নিয়ে তাদের প্রথম ইভেন্ট অনুষ্ঠিত ।রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে “আনলিশিং পটেনশিয়াল” থিম নিয়ে টেড এক্স রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মপ্রকাশ করে। ইভেন্টটিতে বিজ্ঞান, শিল্পকলা এবং পারফরম্যান্সের ক্ষেত্র থেকে আসা দেশবরেণ্য ৯ জন বক্তা বক্তাদের দ্বারা তরুণ শ্রোতাদের কৌতূহলী মনকে উদ্ভাবন, নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক তাৎপ ৎপর্য এবং সৃজনশীলতার পথে বাঁধা জয় করার জন্য অনুপ্রেরণীয় ধারণা সৃষ্টির একটি সিরিজ উপস্থাপন করা হয়।টেড এক্স রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইভেন্টে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে থেকে আসা বক্তাদের এক বৈচিত্র্যময় লাইনআপ যার অন্তর্ভুক্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর সালেহ হাসান নকীব যিনি একাডেমিয়া ও গবেষণা সম্পর্কে তার অন্তর্দৃষ্টি শেয়ার করেন। উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ মাঈন উদ্দিন ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ উদ্দিন খান। এছাড়াও বহুপ্রতিভাধর অভিনেতা খায়রুল বাসার বাংলা বিনোদন জগতের পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্য ডেইলি স্টার এর চিফ বিজনেস অফিসার মোঃ তাজদিন হাসান নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং বিজনেস স্ট্রাটেজি নিয়ে উপস্থিত ছিলেন। চলচ্চিত্র পরিচালক সৈয়দ আহমেদ শওকি সিনেমার জগতে তার সৃষ্টিশীল যাত্রার অভিজ্ঞতা থেকে নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সৃজনশীল হতে উদ্বুদ্ধ করেন, অভিনেতা এবং শিক্ষক মনোজ কুমার প্রামাণিক মিডিয়া ও শিক্ষার সমন্বয়ে সাংস্কৃতিক উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন। অগ্রণী জেনেটিসিস্ট ড. আবেদ চৌধুরী তার কৃষি উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করেন, যা বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তাকে পুনর্গঠন করছে। এই ইভেন্টটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানকারী ব্যক্তিদের থেকে মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি পাওয়ার একটি অনন্য সুযোগ হয়।টেড এক্স রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান সংগঠক, লাইসেন্সী এবং কিউরেটর, মোঃ মাহফুজ আলম নয়ন বলেছেন, “টেড এক্স রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র একটি ইভেন্ট নয়-এটি হলো রূপান্তরকে অনুপ্রাণিত করার একটি আন্দোলন। ‘আনলিশিং পটেনশিয়াল’ থিম নিয়ে আমরা অর্থপূর্ণ আলোচনাকে প্রজ্বলিত করতে, যুগান্তকারী ধারণাগুলি প্রদর্শন করাতে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈশ্বিক মঞ্চে উদ্ভাবনের আলোকবর্তিকা হিসাবে স্থান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এসেছি।”প্রোগ্রামটি তরুণদের মধ্যে সঞ্চিত সম্ভাবনাকে সক্রিয় করার চেষ্টা করবে, যেন তারা বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষতা, শৈল্পিক বৃদ্ধি, উদ্ভাবনী নেতৃত্ব এবং সৃজনশীলতার সীমারেখাকে অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে পারে। ইভেন্টটি গ্লোবাল সাসটেইনিবিলিটি এবং বাংলাদেশী সংস্কৃতির সম্প্রসারের প্রতি তাদের মনোভাবকে উন্নত করবে। অংশগ্রহণকারীরা স্পিকারদের লাইভ টেড এক্স উপস্থাপনার মাধ্যমে একটি রোমাঞ্চকর যাত্রার অভিজ্ঞতা লাভ করবে, যা তাদের ভিন্নভাবে চিন্তা করতে এবং বিশ্বে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। সামগ্রিকভাবে, এই ইভেন্টটি পরিবর্তন জ্ঞান সন্ধিক্ষণে, পিপাসু মানসিকতার একদল আশাবাদী মানুষের সমাবেশ হিসাবে তৈরি হবে, যেখানে তাদের নেটওয়ার্কিং এবং পারস্পরিক আলাপচারিতার এর জন্য বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে।টেড এক্স হলো বিশ্বখ্যাত টেড লাইসেন্সের অধীনে স্বতন্ত্রভাবে আযোজিত একটি ইভেন্ট সিরিজ, যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বক্তারা তাদের চিন্তাভাবনা, উদ্ভাবন এবং অভিজ্ঞতার উপর প্রভাবশালী বক্তৃতা দেন। “এক্স” এর মানে হলো এই ইভেন্টগুলো স্থানীয়ভাবে আযোজিত, তবে এটি টেড-এর একই ফরম্যাট এবং মূল্যবোধগুলো অনুসরণ করে। টেডেক্স ইভেন্টগুলির উদ্দেশ্য হলো প্রেরণা এবং শিক্ষা প্রদান করা, এমন আলোচনা তৈরি করা যা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন চিন্তাভাবনাগুলি প্রচার করে।