ঢাকাশুক্রবার , ১৭ মে ২০২৪
আজকের সর্বশেষ খবর

সাংবাদিক-পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মিঠু বরখাস্ত


মে ১৭, ২০২৪ ১০:২২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গত ৮মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র দখল,ব্যালট ছিনতাই,সাংবাদিক ও পুলিশ ওপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর করে নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগে হোসেন্দি ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠুকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।এ ঘটনায় এর আগে ওই চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে গজারিয়া থানায় মামলা দায়ের হলে তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ সে এখন কারাগারে রয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দুপুরে বরখাস্তে বিষয়টি নিশ্চিত করতেছেন মুন্সীগঞ্জ স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. জুবায়ের।গত বুধবার স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি শাখা-১ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. জুবায়ের বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেন, নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকারের আদেশে মনিরুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।এ ব্যপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।গত ৮ মে প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সে নির্বাচনে হোসেন্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক, তাঁর ভাই গাজীপুর আঞ্চলিক মসলা গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ইকবাল হক ও ভাতিজা তানভীর হকরা ওই ইউনিয়নের ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করতে কেন্দ্রের বাইরে জড়ো হচ্ছিলেন । ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য সোহেল রানা সবাইকে সরে যেতে বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান মনিরুল হকের নির্দেশে সোহেলকে মারধর শুরু করেন তাঁর ভাতিজা তানভীর এবং তাঁদের লোকজন।ওই ঘটনার সময় পাশ থেকে ছবি ও ভিডিও করছিলেন মানবজমিন পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি গোলজার হোসেন। পরে তাঁরা গোলজারের ওপর হামলা করেন। তাঁর মুঠোফোন, পকেটে থাকা টাকা, আইডি ও পর্যবেক্ষক কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করতে থাকেন। অন্য সাংবাদিকেরা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে সাংবাদিকেরা ভোটকেন্দ্রের ভেতর আশ্রয় নেন। সেখানে তাঁদের মারধরের জন্য তেড়ে আসেন মনিরুল হক, তাঁর ভাই ইকবাল হক সহ তাদের লোকজন। সাংবাদিকদের হত্যা ও হাত-পা কেটে ফেলার হুমকি দেন তারা।একই দিন হোসেন্দি বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দখল, ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারেন মনিরুল হকের লোকজন। পুলিশ বাঁধা দিলে ককটেল ফাটিয়ে, তাদের উপর অস্ত্র নিয়ে হামলাচায় মনিরুল হক গং । এ সময় পুলিশের দুই সদস্যকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়।সেই সঙ্গে পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করে তারা। এ ঘটনার পর দিন বৃহস্পতিবার পুলিশ এবং সাংবাদিক গোলজার হোসেন আলাদাভাবে বাদি হয়ে চেয়ারম্যান মনিরুল হককে প্রধান আসামি করে দুটি মামলা করে।এ দুটি মামলা ২১৮ জনকে আসামি করা হয়।পরে ১১ মে শনিবার রাত ৯টার দিকে ঢাকার শাহজাহানপুরের একটি বাড়ি থেকে মনিরুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন রোববার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। পরে শুনানি শেষে এক দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন গজারিয়ার আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রহিমা আক্তার।এদিকে পুলিশ ও সাংবাদিকের দুই মামলায় শুধু ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে না পারায় এবং ইকবাল হককে আইনের আওতায় না আনায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মুন্সীগঞ্জের সংবাদ কর্মীরা।সংবাদ কর্মীদের দাবি ইকবাল হক একজন সরকারি কর্মকর্তা।তবে তিনি এবং তার ভাই বোনেরা প্রতিটি নির্বাচনে তাদের এলাকার কেন্দ্রগুলো দখল করে জাল ভোট দেন। তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। গত ইউপি নির্বাচনের সময় বিপুল পরিমান অস্ত্রসহ পুলিশে ধরা পরেন ইকবাল হক।সরকারি কর্মকর্তা হওয়ায় কোন রকম ব্যবস্থা ছাড়াই বহাল তবিয়তে থাকেন তিনি।এবার উপজেলা নির্বাচনের ঘটনায় তাকে আসমি করা এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সাংবাদিকরা।এ ব্যাপারে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রাজিব খান বলেন, মামলাটি তদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারাই মামলাটি তদন্ত করবেন।তবে মামলা তদন্তের বিষয়টি অস্বীকার করে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ বলেন, আমরা মামলা তদন্তের কোন দায়িত্বভার পাইনি।এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ আসলাম খান বলেন, পুলিশ সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান চলছে।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার মতামত বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com ❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।