ঢাকাশনিবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩
আজকের সর্বশেষ খবর

গনতন্ত্রের লড়াই বিজয় অবধি থামবেনা -শিমুল বিশ্বাস


ডিসেম্বর ১৬, ২০২৩ ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রুবেল শেখঃ  যুদ্ধ ও সংগ্রামের বড় শক্তি হচ্ছে জনসমর্থন এবং নেতৃত্বের দৃঢ মনোবল।বাংলাদেশে ভোট ও গনতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাজপথের লড়াইয়ের পাশাপাশি এখন মনোস্তাত্বিক যুদ্ধেও লিপ্ত রয়েছে। চলমান গনতান্তিক আন্দোলনের প্রতিপক্ষ আওয়ামীলীগ বিবেকহীন, অমানবিক, হিংস্র ও চতুর। মানুষের জীবন ও দেশ ধ্বংস করে হলেও শেখ হাসিনা ক্ষমতা দখলে রাখতে চায়।আমরা চাই মুক্তি।গণতন্ত্রের মুক্তি। মানুষের মুক্তি। বাংলাদেশের মুক্তি২০০৮,২০১৪ এবং ২০১৮ সালে জনমত বিএনপির পক্ষে থাকা সত্বেও আওয়ামীলীগ ও তাদের প্রভুদের সন্মিলিত অপকৌশলের কাছে বিএনপি বিজয় অর্জন করতে পারেনি।দীর্ঘ ১৭ বছর যাবৎ বিএনপির নেতাকর্মীরা অবর্ননীয় জুলুম নির্যাতন গুম খুনের মধ্যেও গনতন্ত্রের দাবীতে লড়াই করে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগের প্রভুরা মনে করেছিল ১০/১৫ বছর বিএনপিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে পারলে বিএনপি দূর্বল হতে হতে ভেঙ্গে চূর্নবিচূর্ন হয়ে যাবে।তবে শত আঘাত ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ওদের প্রভুদের সব ধারনা ভ্রান্ত প্রমান করে বিএনপি এখনও ঐক্যবদ্ধভাবে টিকে আছে। দেশরক্ষা ও মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য বিএনপি এখনও বীরদর্পে গনতন্ত্রের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।বিষ্ময়করভাবে বিএনপি দূর্বল না হয়ে এখন আরো বেশী শক্তিশালী ও জনপ্রিয়।২০২৩ সালে পূণ:রায় আওয়ামীলীগ ও তাদের প্রভুরা মিলিতভাবে ওদের বিভিন্ন সংস্হার মাধ্যমে চাপ,লোভ,ও সর্বাত্বক টোপ দিয়েও বিএনপিকে ভাঙ্গতে পারেনি।

উপরোন্ত আওয়ামীলীগের দেশবিরোধী দেউলিয়া রাজনীতি, বিদেশে টাকা পাচার,সীমাহীন লুটপাট ও ভোগবাদী রাজনীতির কারনে দেশ এখন এক মহাদূর্যোগে হাবুডুবু খাচ্ছে।
এতদসত্বেও আওয়ামীলীগ ২০২৪’এ একতরফা পাতানো ডামি নির্বাচন করার নামে বাংলাদেশের সমস্যা এখন দেশের গন্ডিপেরিয়ে আন্তর্জাতিক রূপ নিয়েছে।
বাংলাদেশে গনতন্ত্র, ভোট ও শ্রমের অধিকার এখন আন্তর্জাতিক সংকট হিসাবে চিহিৃত হচ্ছে। যার পরিনতি নিঃসন্দেহে ভয়াবহ হবে।র‍্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তাদের উপর মার্কিন স্যাংশনের পরে এসেছে মার্কিন ভিসা পলিসি। যা এস্টাবলিশমেন্টের শতভাগ বিপক্ষে গেছে।শোনা যাচ্ছে অর্থনৈতিক অবরোধের কথা।মার্কিন প্রেসিডেন্টের শ্রমনীতির ভিক্টিম হতে পারে গার্মেন্টস সেক্টর।শুধুমাত্র শেখ হাসিনার ক্ষমতালোভের কারনেই দেশ এক মহাসংকটে পরেছে।এই মহাসংকট থেকে উত্তরণের সকল পথ বন্ধ করে রেখেছে শেখ হাসিনা।একই সাথে শেখ হাসিনার শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী নীতির কারনে গার্মেন্টস শিল্পে চলছে মারাত্বক শ্রমিক অসন্তোষ। উপরোন্ত লাগামহীন দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতির কারনে সাধারণ মানুষের জীবন ঔষ্ঠাগত। তারপর বানিজ্য নিষেধাজ্ঞার শংঙ্কা।দেশের সর্বত্র এখন রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক ও সামাজিক অস্হিরতা বিরাজমান।এই মহাতুফানে বাংলাদেশের গনতন্ত্র প্রিয় নেতাকর্মীদের হাতে হাত রেখে শক্তহাতে মাঝি মাল্লা নিয়ে পাড় দিতে হবে তরী। এ যুদ্ধে নেতাকর্মীদের ভয়ের কিছু নেই কারন লক্ষ্য ও আদর্শগতভাবে বিএনপি নিঃসন্দেহে সঠিক পথে আছে। এবারের লড়াইয়ে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি হরতাল অবরোধ কর্মসূচী এখন বাস্তবায়ন করছে সাধারণ মানুষ।বাংলাদেশের গণতন্ত্র, সুষ্ঠভোট ও লুন্ঠিত অধিকার আদায়ের লড়াই বিজয়ের দারপ্রান্তে। বাংলাদেশে ন্যায়ের লড়াইয়ে জনগনই জিতবে এবং অবশ্যই জিতবো।গনতন্ত্র কামী জনগনের পাশাপাশি বিএনপিরও সেকেন্ড কোনো অপশন নেই।দেশের চৌষট্টি টি রাজনৈতিক দল ৭’জানুয়ারি আওয়ামীলীগের পাতানো ও ডামি সংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।বিএনপির দাবি ও ৬৪টি রাজনৈতিকদলের প্রধান দাবী একই। সবাই চায় হাসিনার পদত্যাগ।এবার হাসিনাকে বিদায় নিতে হবেই।প্রতিদিন মুক্তিকামী মানুষের কাফেলা বড় হচ্ছে।মুক্তি এবং বিজয় ছাড়া নেতাকর্মীদের থেমে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিজয় আমাদের অর্জন করতেই হবে। ১৯৭১ সালের ২৫’মার্চ পূর্বপাকিস্হানের গনতন্ত্রকামী নিরস্ত্র জনগনের উপর পাক হানাদারদের বর্বরোচিত সশ্রস্ত্র হামলা যেমন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিলো, তেমনি ২০২৩ সালের ২৮’অক্টোবর’ গনতন্ত্র ও সুষ্ঠভোটের দাবীতে আয়োজিত শান্তিপ্রিয় মহাসমাবেশের উপর আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন বাহিনীর বর্বরোচিত সশ্রস্ত্র হামলায় দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে।এখন শুধু হিম্মত,সাহস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকতে হবে।

কার্ল মার্ক্স বলেছিলেন –
শৃঙ্খল ব্যতিত সর্বহারাদের হারানোর কিছু নেই। জয় করার জন্য আছে সারা পৃথিবী।
তেমনি গনতন্ত্রকামী বাংলাদেশের মানুষের হারানোর কিছু নেই। সামনে নিশ্চয়ই বিজয় অপেক্ষা করছে ইনশাআল্লাহ।
লেখক : বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার মতামত বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com ❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।