

শহীদুল ইসলাম শহীদ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ ভূমিহীন অসহায় দারিদ্র্য মানুষের আশ্রয়ের জন্য সরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন আশ্রয়ন কেন্দ্র। যেখানে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন অনেক দারিদ্র্য মানুষ। সমবায় কার্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ। দেওয়া হচ্ছে প্রতিটি পরিবারের স্বামী ও স্ত্রীকে ঋণ। কিন্তু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ সমবায় কার্যালয় কর্তৃক গৃহীত ঋণদান কর্মসূচিতে উঠেছে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। বিভিন্ন অজুহাতে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এক তৃতীয়াংশ ঋণের টাকা। আর এতে ব্যাহত হতে পারে সমবায়ের ঋণদানের মূল উদ্দেশ্য।জানা গেছে, ভূমিহীন ১০০টি পরিবারের বসবাসের জন্য উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তার জেগে ওঠা চরে ভাটি বোচাগাড়ী আশ্রয়ন-২ নামক একটি আশ্রয়ন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল ২০১৮ সালের দিকে। ২০২১ সালের বন্যায় ভেঙে যায় ৪০টি পরিবারের ঘর।সরেজমিনে দেখা গেছে, বাকী ৬০ পরিবারের মধ্যে এখন সেখানে বাস করছে মাত্র ৬টি পরিবার। বাকী ৫৪টি পরিবারের বাস করেন না কেউই। যারা বাস করছেন এখন চরাঞ্চলের ভিন্ন ভিন্ন পাড়ায়। কিন্তু ৫৪টি পরিবারের কেউই সেখানে বাস না করলেও তাদেরকে নিয়েই সুন্দরগঞ্জ সমবায় কার্যালয় কর্তৃক গঠন করা হয়েছে ভাটি বোচাগাড়ী আশ্রয়ন-২ সমবায় সমিতি লিমিটেড। ৬০টি পরিবারের স্বামী, স্ত্রী কিংবা নমিনী মিলে ১২০ জনকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ঋণ দেওয়ার। ইতোমধ্যে ৮৫ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আর উত্তোলনের পর ঋণ গ্রহীতা এসব দারিদ্র্য মানুষের নিকট থেকে আশ্রয়নের ঘরের দলিলসহ অন্যান্য খরচ এবং ঋণ নিলে আর কিস্তি দিতে হবে না এমন প্রলোভন দেখিয়ে পরিবার প্রতি নেওয়া হয়েছে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা।তথ্য বলছে, জুলাই ২০১৭-তে ভাটিকাপাসিয়া আশ্রয়ন-২ সমবায় সমিতি লিমিটেডে ৩৬০টি পরিবারের মধ্যে ৩৫৬টি পরিবারে উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে ঋণ বিতরণ করা হয়েছিল ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ওই ঋণের মাসিক কিস্তি ছিল ঋণ প্রতি সার্ভিস চার্জসহ ২১৪ টাকা হিসেবে ৭৫ হাজার ৯৭০ টাকা। রিপোর্টে দেখানো হয়েছে আশ্রয়নটি নদী গর্ভে বিলীর হয়েছে ২০২০ সালের গোড়ার দিকে। কিন্তু ঋণের মেয়াদ এক বছর হলেও ঋণদান থেকে বিলীন হওয়া পর্যন্ত মোট ৩০ মাসে আদায় হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ২৮ টাকা এবং সার্ভিসচার্জ ৪৯২ টাকা। তাই ঋণ নিলে ভাটিকাপাসিয়া আশ্রয়ন-২ সমবায় সমিতির মতো কোনো কিস্তিই দিতে হবে না, এমনটিই বুঝানো হয়েছে ভাটি বোচাগাড়ী আশ্রয়ন-২ সমবায় সমিতির ঋণ গ্রহনকারী সদস্যদের। বিনিময়ে দিতে হবে প্রদত্ত ৩০ হাজার টাকা ঋণের ১৫ হাজার টাকা। আর ১০ হাজার দিলে দিতে হবে কিস্তি।আশ্রয়নে অস্থায়ীভাবে বাস করছেন পরিবারসহ এক নারী। তিনি বলেন, যারা লোন পেয়েছে তাদের কাছে থেকে শুনেছি ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে সবাই।কাজ থেকে ফিরে বিকেলে বারান্দায় বসে কোনো আমিষ ছাড়াই শুধু কচুর তরকারি দিয়ে ভাত খাচ্ছিলেন এক ঋণী। যিনি অন্যদিন টাকা দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছিলেন। আপনি খাচ্ছেন মাছ ছাড়া আর আপনার ঋণের টাকা নিয়ে ইলিশ খাচ্ছেন অন্যরা। কিন্তু কিস্তি তো পরিশোধ করতে হবে নিজেকেই। এমন কথা বলতেই তিনি বলেন, আশ্রয়নের ঘর দলিল করে দেওয়ার নাম করে আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছে। পেয়েছি ২৬ হাজার টাকা।কিস্তি দিতে হবে না এমনটি বুঝিয়ে প্রত্যেকের কাছে ঋণ বাবদ ১০ থেকে ১৫ টাকা নেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আশ্রয়নের সভাপতি নুর মোহাম্মদ মেকার ক্ষীণ কন্ঠে বলেন, বিভিন্ন খরচ বাবদ লোন প্রতি ২, ৪, ৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে তারা। কর্মকর্তাদের কিছু দিতে হয়েছে কি না? জবাবে তিনি বলেন, চলাচল করতে কিছু দেওয়া হয়েছে। নদীর এপারওপার ভিন্ন গ্রামে যারা এখন থাকে তাদের কিস্তির দিন একত্র করতে পারবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি সম্ভব না।ঋণদানে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, আমি নিজেই দুইবার তদন্ত করে সম্পূর্ণ যাচাই বাছাই করে নিয়ম মেনেই ১২০ জনের মধ্যে ৮৫ জনকে ঋণ দিয়েছি। লেনদেনের কোনো প্রশ্নই আসে না।আর ভাটিকাপাসিয়া আশ্রয়ন-২ সমবায় সমিতিতে দেওয়া ঋণ আড়াই বছরে আদায় করা হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ২৮ টাকা এবং সার্ভিসচার্জ ৪৯২ টাকা। এর কারণ কী? জবাবে তিনি বলেন, এটি আমার আমলে না।এর আগে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. আনিছুর রহমান। যিনি এখন গাইবান্ধার জেলা সমবায় কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে রয়েছেন। তিনি জানান, টাকা নেওয়ার বিষযটি আমাকে খোঁজ নিয়ে বলতে হবে। আর নদী গর্ভে বিলীন হওয়া সমিতির নদী ভাঙনের আগে ৩০ মাসে বিতরণকৃত ঋণ ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ৭ হাজার ৫২০ টাকা আদায়ের বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭