

মোঃ মানিক হোসেনঃ বেড়া(পাবনা)প্রতিনিধিঃ কোষা নৌকার জন্য প্রসিদ্ধ পাবনার বেড়া উপজেলা। সময়ের বিবর্তণ, জৌলুস হারানো নদ-নদীর করুণ অবস্থা আর যান্ত্রিক সভ্যতা বিকাশের ফলে বিলুপ্তির পথে আবহমান গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম ধারক ঐতিহ্যবাহী যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা। নদীমাতৃক এ এলাকায় একসময় কোষা নৌকার অনেক চাহিদা ছিল। এ নৌকা তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেকে। তবে, কালের বিবর্তনে কোষা নৌকার কদর কমছে। এ উপজেলায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে কোটি টাকার নৌকা বিক্রি হতো। এখন নৌকা বিক্রি কমে যাওয়ায় পেশা বদল করছেন কারিগররা।
বেড়া উপজেলায় সিএনবি চতুর বাজার, নাকালিয়া বাজার, কাশিনাথপুর বাজার, নগরবাড়ী ঘাট, কাজিরহাট ঘাটে নৌকা তৈরির কারখানা বা স্থান আছে। সেসব জায়গায় তৈরি হয় বিভিন্ন রকমের নৌকা। এসব নৌকার মধ্যে কোষা নৌকাও এক রকমের ঐতিহ্যবাহী নৌকা। এখনো বেড়া, সুজানগর পাশ দিয়ে বয়ে চলা যমুনা ,পদ্মা, হুরাসাগর, ইছামতি, নদীতে ঐতিহ্যবাহী এ নৌকার দেখা মেলে। ছোট আকারের কোষা নৌকাকে বলে কোষাডিঙি বা ছোট কোষা। এসব নৌকার সাধারণত কোনো ছই বা চাল থাকে না। কোষাডিঙি মাত্র ৪.৫ থেকে ৬ মিটার লম্বা ও ২.১ থেকে ২.৪ মিটার চওড়া হয়। এটি খেয়াঘাটে স্বল্পযাত্রী পারাপার বা স্বল্পদূরত্বে যাত্রী বহন, বিল থেকে কাটা ধান বয়ে আনা, মাছ ধরা ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব নৌকা মাত্র একজন মাঝি বৈঠা বেয়ে চালায়।বেড়া উপজেলার নৌকা বেচাকেনার হাট হিসেবে জেলার সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হাট হচ্ছে সিএনবি চতুর হাট,কাশিনাথপুর হাট । এই হাটের ঐতিহ্য কয়েক যুগের । সিএনবি চতুর হাট-কাশিনাথপুর হাট থেকে শুধু স্থানীয়রাই নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চল বিশেষ করে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নাটোরের ক্রেতারা এসেও কোষা নৌকা কিনে নিয়ে যায়।তবে রাস্তাঘাট বৃদ্ধি ও নদ-নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বর্তমানে নৌকার ব্যবহার অনেক কমে গেছে। ফলে নৌকার চাহিদাও আগের মতো আর নেই। এতে নৌকার নির্মাণ শ্রমিক তথা কারিগরদের সুদিনও আর নেই। তবে এ জেলার নিম্নাঞ্চলে কোষা নৌকার ব্যবহার হয় বলে এখানকার কারিগররা এখনো কোনভাবে টিকে রয়েছেন। জৈষ্ঠ্য মাসের শুরু থেকেই কোষা তৈরির কাজ শুরু করেন। করই, সিসা, মেহগনি, আম কাঠের একেকটি কোষা তৈরিতে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা সময় লাগে। প্রতি শনিবার, মঙ্গলবার সিএনবি চতুর হাটে কোষা নৌকা বিক্রি হয়। ভালো কাঠ না থাকায় কড়ই ও সিসা কাঠ দিয়ে কোষা তৈরি করছেন অনেক মিস্ত্রী। তারা রাত দিন পরিশ্রম করে ২ জনে ৩/৪টি কোষা তৈরি করতে পারে।নৌকা কারখানা মালিক ওয়াহেদুল বলেন, এখানকার কোষা নৌকার বেশ কদর থাকায় পাবনা জেলার ছাড়াও আশপাশের জেলা ও উপজেলা থেকেও ক্রেতারা নৌকা কিনতে আসেন। এ বছর কোষা নৌকার চাহিদা একেবারেই কম। এবার ভরা মৌসুমেও তেমন বেচাকেনা হচ্ছে না । তাই এখন লোকসানেই কোষা নৌকা বিক্রি করছি। আমি এ পেশায় আছি প্রায় ২০ বছর যাবৎ। আগে আমার দোকানে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন কারিগর কাজ করতেন। অথচ এবার আমি মাত্র চারজন কারিগর নিয়ে কাজ করছি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসা লোকসানে ।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ এ্যাড. নজরুল ইসলাম । ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | দৈনিক ভোরের খবর,খন্দকার এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের একটি প্রতিষ্ঠান। অফিসঃ ১৫০ নাহার ম্যানসন (৫ম তলা) মতিঝিল বানিজ্যিক এলাকা,ঢাকা -১০০০। বার্তাকক্ষ-+৮৮০১৭৪৫-৩৫৪২৭৭