টঙ্গীবাড়ী (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে খালের পানিতে ঝাপ দিয়ে নিখোজঁ রয়েছে এক মাদক ব্যবাসায়ী। গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টা দিকে ওই মাদক ব্যাবসায়ী খালের পানিতে ঝাপ দিয়ে নিখোঁজ হয়। তারপর হতে তার আর সন্ধান না পেয়ে রাতে তার পরিবার ৯৯৯ ফোন করলে সকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১০ আগষ্ট) সকাল ৭.৪০ মিনিট হতে ডুবিরীরা ঘটনাস্থলে এসে কাজ করলেও এ রির্পোট লিখা দুপুর ২টা পর্যন্ত নিখোঁজের কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জানাগেছে,মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও এলাকার মাদক ব্যাবসায়ী কুদ্দুস সরদারকে গত ৯আগষ্ট বুধবার বিকালে সাড়ে ৪টার দিকে ধরার জন্য ধাওয়া করে টঙ্গিবাড়ী থানা পুলিশ। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বালিঁগাওঁ বাজারের পাশে ঐতিহাসিক তালতলা গৌরগঞ্জ খালে ঝাপ দেয় মাদক ব্যবসায়ী কুদ্দুস সরদার (৪৫)। সে বালিগাঁও গ্রামের আঃ ছাত্তার সরদারের ছেলে। খালটি বেশ প্রসস্ত ও তীব্র স্রোত থাকায় নিখোজঁ হয় সে বলে জানায় এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা বলেন , কুদ্দুস সরদার এবং তার পরিবারের লোকজন বালিগাঁও এলাকার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তারা মাদক বিক্রি করে পাশাপাশি বাড়িতে জুয়ার আসরও বসায়। এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে ফেলছে। কিছুদিন পর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের পরিবারের লোকজনকে ধরে নিয়ে যায়। পুনরায় তারা জেল হাজত হতে জামিনে এসে মাদক ব্যবসা করে।
এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী থানা এসআই আল মামুন বলেন, মাদক বিক্রির খবর পেয়ে পুলিশ কুদ্দুস সরদারকে ধরার জন্য ধাওয়া করলে সে পানিতে ঝাঁপিয়ে সাতরিয়ে পালিয়ে যায়। আমরা দীর্ঘ সময় তাড়া করে তাকে ধরতে পারিনি।
তবে নিখোঁজ কুদ্দুস সরদারের বড় মেয়ের জামাতা আঃ আজিজ বলেন,পুলিশ কি কারনে আমার শশুড়কে ধাওয়া করেছে তা আমাদের জানা নেই। তবে সে পানিতে ঝাপ দিয়ে পরার পর পুলিশ তাকে উদ্ধারের কোন চেষ্টা করেনি এবং আমাদের পরিবারকেও বিষয়টি পুলিশ জানায়নি। আমরা তার খোঁজ না পেয়ে রাতে ৯৯৯ এ ফোন দিলে সকাল ৭.৪০ মিনিটের দিকে ডুবুরি দল এসে তার সন্ধান করছে।
এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিস হেড অফিসের ডুবুরী ভ্রাম্যমান কর্মকর্তা আবুল খায়ের বলেন, ভুক্তভোগীর পরিবার ৯৯৯ ফোন করলে আমরা ঢাকা হতে এসে সকাল ৭.৪০ মিনিট হতে আমাদের ৪ জন লোক দিয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুজে বের করার চেষ্টা করতেছি। ঘটনাস্থলের দের কিলোমিটার জায়গাজুরে খুজেঁও নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া যায়নি। মনে হচ্ছে প্রচন্ড স্রোতের কারনে তার মৃতদেহ পানিতে ভেষে উঠার সময় হয়ে গেছে আমরা এখন ট্রলার নিয়ে পানিতে তার খোজঁ করবো।
এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ রাজিব খান বলেন, পুলিশ অন্য কাজে ওই এলাকায় গেলে পুলিশ দেখে কুদ্দুস সরদার নদীতে ঝাপ দেয়। ওকে পুলিশ তাড়া করেনি। ও একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ড্রেস পরা পুলিশ দেখে লাফিয়ে ঝাপিয়ে পানিতে পরে সাতরাতে থাকে। এটা ওই এলাকায় স্থাণীয় লোকজন দেখছে এবং পুলিশও স্থাণীয়দের পানিতে লাফিয়ে পরার বিষয়টি জানিয়ে আসছে।

