সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সাভার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত আশুলিয়া হতে অপহৃত শিশু সিরাজগঞ্জ থেকে উদ্ধার বিএফইউজে’র সভাপতি ফারুক, মহাসচিব দীপ আজাদ জনগণের সেবা করার সুযোগ চান মেম্বার প্রার্থী বাবু হাওলাদার দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ভাংচুর ও বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদে বেড়ায় মানববন্ধন ইয়ারপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড কমিটির আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রা ধর্ম নি‌য়ে যেন কেউ বাড়াবা‌ড়ি না ক‌রে, বল‌লেন প্রধানমন্ত্রী। আশুলিয়ায় ফার্মেসী দোকানে চুরি, খোয়া গেছে নগদ অর্থসহ ১০ লক্ষ টাকার মালামাল আশুলিয়ায় ছেলের দা’য়ের কোপে প্রাণ গেল বাবার এবার জিত‌তেই হ‌বে বাংলা‌দেশ‌কে। আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল -এর ৫৭তম জন্মদিন পদ্মা নদীতে ইলিশ মাছ ধরার সময় আটক ৫৫ খুলনায় পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ করলো শিক্ষার্থী সহযোগিতা সংগঠন আশুলিয়ায় ৫০০ টাকার চুরির জেরে শিশু খুন,আটক ১ আশুলিয়ায় ৫০০ টাকা চুরির জেরে শিশু খুন,আটক ১ বন্ধ হয়ে গেল ইভ্যালির ওয়েবসাইট ত্রিশালে দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ডভ্যানে বাসের ধাক্কা, নিহত ৬ বৃদ্ধকে চাপা দেয়া প্রাইভেট কার থেকে মাদকসহ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হাসাইলে নির্বাচনের মাঠে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী দ্বীন ইসলাম বালা টঙ্গীবাড়ীতে মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের মাঝে চাল বিতরণ

এবার ইভ‌্যা‌লি প্রতারণার মু‌খোমু‌খি হ‌লেন দুই মন্ত্রী।

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৪৩ পাঠক সংখ্যা

মোঃ সা‌ফিউল আজীম খানঃ

ই-কমার্সের প্রতারণা নিয়ে একধরনের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন দুই মন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ই-কমার্সের প্রতারণার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায় এড়াতে পারে না। প্রাথমিকভাবে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। অপরদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ‘টাকা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে। টাকা লেনদেনের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক মনিটরিং করবে। তবে দায় নিয়েই বলছি আগামী দিনে প্রতারণা বন্ধ করতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ বুধবার দুটি বৈঠকের পর পৃথকভাবে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী।
এদিন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা ঠেকাতে আইন করার বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ইভ্যালির গ্রাহকদের টাকা ফেরত প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও এমডি আটক হয়ে জেলে আছেন। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে কথা বলব। টাকা ফেরত দেওয়ার মতো কোনো সম্পদ তাদের কাছে আছে কিনা, সেটি শুনতে হবে। এর আগে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারছি না। কারণ ইভ্যালির টাকা সরকার নেয়নি। ইভ্যালির গ্রাহকরা যে লাভ করেছেন, সেখানে সরকার অংশীদার নয়। তিনি আরও বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা বন্ধে পৃথক ডিজিটাল কমার্স আইন করা হবে। ওই আইনের অধীনে হবে একটি রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ।
একই দিন অনুষ্ঠিত সরকারের ক্রয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত বৈঠক শেষে ইভ্যালির প্রতারণার বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করার সময় কারও না কারও ছাড়পত্র নিয়েছে। এখানে ছাড়পত্র দিচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তাদের প্রাইমারিলি (প্রাথমিক) দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের সঙ্গে অন্য যাদের সম্পৃক্ততা আছে, তাদের সবারই এ প্রতারণার জন্য আমি মনে করি দায়িত্ব নেওয়া উচিত। ই-কমার্সে প্রতারণা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কোনো উদ্যোগ থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে বলা হবে। মূলত কাজটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা আছে। এখানে আইটির বিষয়ও আছে, এজন্য তারাও দায়িত্ব নেবে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো মাঝেমধ্যে জন্ম নিয়ে মানুষকে ঠকায়। এটা কিন্তু অনেক আগ থেকে চলে আসছে। আগে ম্যানুয়ালি হতো, এখন তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে করছে। সরকারকে দায়িত্ব নিতে হবে অবশ্যই। সরকারই দায়িত্ব নেবে। সরকার দায়িত্ব এড়াবে কেন?
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের লোপাট ও প্রতারণা বন্ধে পৃথক ডিজিটাল কমার্স আইনের অধীনে একটি রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত হয় । এর মাধ্যমে আগামী দিনে ই-কমার্সের নামে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সম্প্রতি ইভ্যালিসহ যে ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকের টাকা লোপাট করেছে, প্রচলিত আইনে তাদের বিচার করা হবে। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে বর্তমান মানি লন্ডারিং এবং ডিজিটাল অ্যাক্টে সংশোধনী আনা হবে।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক লাখ লোক ই-কমার্সে যুক্ত হয়েছে। গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের জন্য সব বন্ধ করা ঠিক হবে না। এজন্য এখন থেকে ই-কমার্স পরিচালনা করতে মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন লাগবে। তাদের কার্যক্রম দেখার জন্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ে মন্ত্রণালয় একটি ই-কমার্স নীতিমালা করেছে। এরপর অনেক প্রতিষ্ঠান শৃঙ্খলার মধ্যে এসেছে। এর আগেই ইভ্যালি অনিয়ম করেছে। আমাদের কাছে রিপোর্ট আছে জুলাইয়ের আগেই ইভ্যালি ৬ হাজার কোটি টাকার লেনদেন করেছে। কিন্তু নীতিমালা হওয়ার পর পরবর্তী ৪ মাসে লেনদেন হয়েছে ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকার পণ্য সরবরাহ করা হয়। এখন সামনের দিনগুলোয় প্রতারণার কোনো সুযোগ বন্ধ করতে আইন করা হবে। আর কাজ শুরু হবে আগামীকাল (আজ) থেকেই। এছাড়া এখন থেকে মানুষকে সচেতন করে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। যাতে বড় ধরনের পণ্য ছাড়ের অফারের প্রলোভনে না পড়ে মানুষ। এক্ষেত্রে বড় কোম্পানিগুলো প্রচারের পাশাপাশি নিচে লিখে দিতে হবে লেনদেনের জন্য সরকার দায়ী থাকবে না।
ইভ্যালি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের ৫০০ কোটি টাকার দায় রয়েছে। যার অর্ধেক হচ্ছে ক্রেতার। বাকি অর্ধেক যাদের কাছ থেকে পণ্য নিয়েছে ইভ্যালি। এদের কাছে কী ধরনের সম্পত্তি আছে, আমার জানা নেই। গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো সুযোগ তাদের কাছে আছে কিনা, সে ব্যাপারেও তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।
উচ্চ আদালত থেকে বলা হয়েছে, মানুষ নিঃস্ব হলে সরকার নজর দেয়-এটি এক ধরনের ভর্ৎসনা। বলা হয়, চোর গেলে বুদ্ধি বাড়ে। এ ধরনের প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পরও কেন ব্যবস্থা নেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ৪ জুলাই নীতিমালা করার পর কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ ছিল না। শুধু ক্যাশ অন ডেলিভারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো ব্যবসায় সহায়তা করা। কিন্তু মানুষকে প্রলোভন দেখাচ্ছে, এটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কীভাবে দেখবে। একশ টাকার জিনিস পঞ্চাশ টাকায় দিচ্ছে। এখানে কীভাবে সম্ভব।
টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সরকার টাকা নেয়নি। একজন লোক ইভ্যালি থেকে পণ্য কিনে যখন লাভবান হয়েছে, সে অংশীদারও সরকার হয়নি। এরপরও আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব। তাদের কী সম্পদ আছে, দেখা হবে।
ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরে হাজার হাজার অভিযোগ পড়েছে ইভ্যালির বিরুদ্ধে। এরপরও কি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানতে পারেনি। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ৪৯৩২টি অভিযোগ পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর। এর ৮৪ শতাংশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এখন ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়ে গেলে সেখানে আর কিছু করার থাকে না।
এর আগে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, ই-কমার্স নীতিমালা প্রণয়নের পর এ খাতে শৃঙ্খলা অনেক ফিরেছে। বর্তমানে যে মানি লন্ডারিং আইন এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট আছে, সেখানে ই-কমার্স নেই। এটি অন্তর্ভুক্ত করতে দুটি আইন সংশোধন করা হবে। এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন বলে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Daily Vorer Khabor
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102