ঢাকাশনিবার , ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টঙ্গিবাড়ীতে নদী ভাঙ্গনে ঘর সরিয়ে উন্মুক্ত ভিটায় রাত্রি যাপন

বাবুল হাওলাদার, টঙ্গীবাড়ী প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২১ ১২:৫২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নদী ভাঙ্গনে নিজের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিলেও উন্মুক্ত আকাশের নিচে পূর্বের ভিটায় বসবাস করছে মজিবুর (৪০)। তার বসত ভিটার পাশেই বইছে নদী। যেভাবে ভাঙছে হয়তো দু’এক দিনের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে ভিটাটি।

তাই নিজের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়ে রেখেছেন পাশে রাস্তার উপরে। রাস্তার মধ্যে ঘর তোলারও অর্থ নেই তার। তাই দুটি টিনের চালের একপাশ ‌মাটির উপর রেখে অন্যপাশ খাড়া করে দুটো চাল একসাথে রেখে তার ভিতর বসবাস করছে তার পরিবার।

নিজের স্ত্রী,ছেলে ও বাবা, মা কোনো রকম সেই ঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই হলেও একদিকে ঘরে থাকার জায়গার অভাব অন্যদিকে নিজের ভিটির মায়ায় মজিবুর রয়ে গেছেন আগের ভিটায়।

মজিবুর জানায়, নদীতে ঘরবাড়ি ভেঙে সে তার পরিবার নিয়ে পাশের রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে। টাকার অভাবে রাস্তার পাশেও ঘর তুলতে পারছে না সে। তাই ঘরের টিনের চাল দুটি বাঁকা করে রেখে তার ভিতরে কোন রকম বসবাস করছে তার স্ত্রী ছেলে ও মা বাবা। সেখানে থাকার স্থান না থাকায় আগের ভিটায় রাত্রি যাপন করছে সে ।

সরেজমিনে বিকালে মুন্সিগঞ্জ টঙ্গিবাড়ী উপজেলার কান্দাবাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় ওই এলাকায় তীব্র আকারে নদী ভাঙছে। গত কয়েকদিনের ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে ১৫ থেকে ২০টি পরিবারের বসত ভিটা। সেইসাথে মজিবরের বসতভিটার পাশেই নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে‌। তাই দ্রুত সরিয়ে নিয়েছেন তার ঘরবাড়ি‌। কিন্তু ঘরবাড়ি সরিয়ে নিলেও উঠানোর স্থান না থাকায় রাস্তার পাশে ঘরবাড়ি রেখে তার মধ্যে বসবাস করছে মজিবরের পরিবার। কিন্তু মজিবর রয়ে গেছে নদীর পাড়ে তার সেই আগের ভিটায়। একটি চৌকি পেতে তার উপরেই বসবাস করছে সে। রাতে মশা কামড়ায় কিনা জানতে চাইলে মজিবর জানায়,রাতের বেলা সে একাই চৌকির উপর মশারি টানিয়ে ঘুমিয়ে থাকেন। নদীগর্ভে এই ভিটামিন বিলীন হয়ে গেলে কোথায় যাবেন জানতে চাইলে সে জানায় আল্লাহ ভাল জানেন। মজিবর আরো জানায়, সে পেশায় একজন দিনমজুর। পাশের দিঘিরপার বাজার হতে মাথায় করে বিভিন্ন মানুষের পণ্য সামগ্রী পৌঁছে দেন তাদের বাড়িতে। কাজ করে কোনরকম নিজ স্ত্রী এক ছেলে ও মা বাবাকে নিয়ে খেয়ে-পড়ে বেঁচে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে নদী ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় ঘর ভেঙে রাস্তার পাশে রাখলেও ঘর তোলার অর্থ নেই তার। এ পর্যন্ত কোনো সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পায়নি বলেও জানায় সে।
মুজিবরের প্রতিবেশী মতি সিকদার জানান কয়েকদিন যাবত তীব্র আকারে ভাঙছে নদী। মজিবরের পরিবার ঘরবাড়ি নিয়ে রাস্তার পাশে রেখে এসে মজিবর তার আগের ভিটার মধ্যে চৌকি বসিয়ে এখনো বসবাস করছেন।

স্থানীয় দিঘীরপাড় ইউপি পরিষদের সদস্য আসলাম হালদার ভোলা মেম্বর জানান, গত কয়েকদিনে ভাঙ্গনে এই গ্রামের ২০টি পরিবারের বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আর মাত্র ৫/৭ টি পরিবার ওই গ্রামে রয়েছে। এখন পর্যন্ত আমি কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের একটি তালিকা চেয়ারম্যান চেয়েছে। আমি ইউনিয়ন পরিষদে জমা দিয়েছি।

এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন বলেন, ভাঙ্গন কবলিত মানুষজনকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তাদেরকে ঘর পুনরায় নির্মাণের জন্য নতুন টিন দেওয়া হবে। এছাড়া তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানেরও ব্যবস্থা করা হবে।

✅ আমাদের প্রকাশিত কোন সংবাদের বিরুদ্ধে আপনার মতামত বা পরামর্শ থাকলে ই-মেইল করুনঃ dailyvorerkhabor@gmail.com ❌ বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।