বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:১৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বিএনপির প্রায় ৩০০ নেতাকর্মী আটক : ডিবি প্রধান নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ নিহত ১, আহত শতাধিক গাইবান্ধায় ট্রাক চাপায় ব্যবসায়ী নিহত প্রেমিকার বাবার পিটুনিতে প্রেমিকের মৃত্যু টঙ্গীবাড়ীতে ৩ দিন পর নদী থেকে জেলের লাশ উদ্ধার ৩৫০ কম্বল বরাদ্দ থেকে এমপি ২০০ কম্বল দাবি করায় ফেরত দিলেন চেয়ারম্যানরা পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলে নিখোঁজ টঙ্গিবাড়ীতে প্রকাশ্যে চলছে উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিতরে কোচিং বাণিজ্য সাভারের তাজরীন ট্রাজেডির দশ বছর আজ ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকদল এর সদস‍্য সচিব মেহেদী হাসান এর শোক প্রকাশ জাককানইবি’তে দুইদিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল ক্যাম্পাস জার্নালিজম ফেস্ট’ শুরু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘর পরিদর্শন মাথাপিছু আয়ের মিথ্যা গল্প শোনায় সরকার -কেএম হারুন তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে জিসাফো’র আলোচনা সভা টঙ্গীবাড়ীতে ৮০০ পিস ইয়াবাহ সহ গ্রেফতার ১ এবার কোনো নির্বাচন এদেশে হবে না যতক্ষন না নিরপেক্ষ সরকার করা হবে সিংগাইরে খাল থেকে পাগলীর ভাসমান লাশ উদ্ধার বেড়ার মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশের সংবাদ সম্মেলন – মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে যাচাই বাছাই কার্যক্রম স্থগিত পাকিস্তান অনূর্ধ্ব ১৯ দলকে হারালো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দল; ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হলেন মুন্সিগঞ্জের মারুফ মৃধা শিবালয়ে ড্রেজার বাণিজ্যের অভিনব কৌশল আনলোডের অন্তরালে যমুনার বালু লুট

সরকারের নির্ধারিত চামড়ার মূল‌্য অকার্যকর।

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১
  • ৩৮৮ পাঠক সংখ্যা

মোঃ সাফিউল আজীম খানঃ

ট্যানারি ও আড়ত মালিকদের কারসাজিতে সরকারের বেঁধে দেওয়া কুরবানির পশুর চামড়ার মূল্য কার্যকর হয়নি। নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য করা হয় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। ফলে প্রকৃত মূল্য না পেয়ে পাইকারি বাজার পোস্তার আড়তের সামনে, বগুড়ার রাস্তায় ও করোতোয়া নদীসহ অনেক স্থানে চামড়া ফেলে দেওয়া হয়।

এ সক্রিয় সিন্ডিকেটে পোস্তাসহ দেশব্যাপী আড়ত মালিকরা জড়িয়ে পড়েন। চামড়ার মূল্য কমানোর কারসাজি ধরতে চট্টগ্রামের একাধিক আড়তে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তর।

অপরদিকে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের প্রধান উপকরণ লবণেরও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বস্তা প্রতি ৫শ টাকা দাম বাড়ানো হয়। লবণের এমন সংকটে অনেক আড়তদার ঈদের দিন রাতে চামড়া কিনতে আগ্রহী না হওয়ায় এর মূল্যের আরেক দফা পতন হয়। ফলে উপায় না পেয়ে কেউ কেউ বড় ধরনের লোকসান দিয়েও চামড়া বিক্রি করেন।

এ লবণ সংকটের কারণে ৫ থেকে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্টের আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। অবশ্য এর দায়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে লবণের সিন্ডিকেটের কারসাজি হচ্ছে কিনা, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা সঠিক মূল্য পাচ্ছে কিনা-তা তদারকি করতে ঈদের পরের দিন সাভারের বিসিক চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শন করেছেন শিল্প সচিব জাকিয়া সুলতান।

কুরবানির পশুর চামড়ার সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহণসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় যৌথ সমন্বয় কমিটির সদস্য মো. হাফিজুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব) দৈনিক ভোরের খবরকে বলেন, পশুর চামড়া ঈদের দিন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা প্রবেশ বন্ধ রাখায় হয়। এতে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচার যাতে না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এ ব্যাপারে কঠোর দায়িত্ব পালন করছে। লবণ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই। সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। কতিপয় ব্যবসায়ী এ ধরনের সংকট সৃষ্টির খবর পেয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এবং বিসিকের পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে। এর জন্য অসাধু কয়েক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাও করা হয়েছে।

ঈদের দিন আকার ভেদে পোস্তায় প্রতি পিস গরুর চামড়া আড়ত মালিকরা কিনেছেন ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়। এর মধ্যে বড় আকারের চামড়া ৫৫০ টাকা, মাঝারি ৪০০ টাকা ও ছোট চামড়ার দাম দেওয়া হয় ২৫০ টাকা। রূপগঞ্জ থেকে ট্রাকে করে ৩০০ চামড়া পোস্তায় বিক্রি করতে আসেন মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. ফারুক। তিনি বলেন, বিগত এক বছরে সবকিছুর দাম বাড়ছে কিন্তু চামড়ার দাম বাড়েনি। সব চামড়া লোকসান দিয়ে বিক্রি করা হয়।

রায়হান নামের একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী বলেন, আমি ঢাকার বাইরে থেকে ১৫ লাখ টাকায় আড়াই হাজার পিস চামড়া কিনে এনেছি। কিন্তু চামড়াগুলো বিক্রি করতে পারছি না। লবণ সংকটের কথা বলে কেউ দামই বলছে না।

কামাল হোসেন নামের মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, রাজধানীর উত্তরা থেকে ২৬০ পিস চামড়া নিয়ে বুধবার ১০টায় লালবাগে আসেন। পোস্তায় ব্যাপক যানজটের কারণে আড়তদারের কাছে পৌঁছাতে সকাল ৭টা বেজে যায়। এ কারণে চামড়ার যে দাম পাবেন আশা করেছিলেন তা পাচ্ছেন না।

এদিকে দাম না পেয়ে পোস্তা ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আশপাশের বেশ কিছু আড়তের মোকামের সামনের প্রধান সড়কে শত শত চামড়া ফেলে রেখে যান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

তাদের মধ্যে একজন বাদল জানান, ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় গরুর চামড়া সংগ্রহ করে রাত ৮টার দিকে আড়তে বিক্রি করতে যান। কিন্তু আড়তদাররা গড়ে ৩০০ টাকা করে দাম দিতে চান। এরপর দর কষাকষি করতে করতে সময় নষ্ট হয়, রাত গভীর হয়। পরে আড়তদাররা চামড়া পচে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে আড়ত বন্ধ করে চলে যান। তবুও সারা রাত অপেক্ষায় ছিলাম কোনো গতি করা যায় কিনা। শেষ পর্যন্ত ভোরে এসব চামড়া আমরা রাস্তায় ফেলে দেই। আর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকেও শত শত নষ্ট চামড়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এগুলো বর্জ্য হিসাবে নিয়ে যান।

এদিকে ‘কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস জানান, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেক জায়গায় চামড়া ফেলে যাচ্ছেন। এসব চামড়া নিয়ে করপোরেশনের কর্মীরা বেকায়দায় পড়েছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, একটা বিষয় আমরা লক্ষ্য করছি, মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করেছেন। সেই চামড়াগুলো হয়তো তারা বিক্রি করতে পারেননি। পরে বিভিন্ন জায়গায়, নর্দমার সামনে, নর্দমার মুখে তারা সেই চামড়াগুলো ফেলে গেছেন। এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।

ছমির হানিফ অ্যান্ড সন্সের মালিক হাজী মো. ছমির উদ্দিন বলেন, ৪৬ বছর ধরে চামড়ার ব্যবসা করছি। এমন বাজার আর দেখিনি। আজকে গড়ে প্রতিটি চামড়া আমরা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দর দিচ্ছি।

এসএম কামাল অ্যান্ড সন্সের পক্ষে আনোয়ার বলেন, সরকার লবণযুক্ত চামড়ার দাম গত বছরের তুলনায় প্রতি বর্গফুটে ৫ টাকা বেশি নির্ধারণ করেছে। আমরা নির্ধারিত দাম থেকে ৩ থেকে ৪ টাকা কমে কিনছি। তবে পোস্তার চামড়ার আড়তদাররা এবার চামড়ার বাজার নিয়ে সন্তুষ্ট। তারা কেনা চামড়ায় লবণ লাগিয়ে ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

যদিও এবার ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৩ থেকে ৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। খাসির চামড়া ১৫ থেকে ১৭ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ থেকে ১৪ টাকা। কিন্তু এ দাম বেচাকেনা হয়নি কোথাও।

জানতে চাইলে বিটিএর চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, গতবারের চেয়ে এবার চামড়া কম সংগ্রহ হবে।

এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের ধারণা অনুযায়ী এবার ঢাকায় ৫ লাখ গরু এবং এক লাখ ছাগলের চামড়া পাওয়া যেতে পারে, যা গত বছরের তুলনায় এক থেকে দুই লাখ কম হতে পারে। তিনি আরও বলেন, সিন্ডিকেট করে লবণের দাম বাড়ানো হয়েছে এ বছর। এ জন্য ৫ থেকে ১০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব টিপু সুলতান যুগান্তরকে বলেন, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামেই চামড়া বেচাকেনা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে আড়ত মালিকরা এসব চামড়া ট্যানারির মালিকদের কাছে বিক্রি করবে।

লবণের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেষ সময়ে পোস্তায় কিছু লবণের সংকট সৃষ্টি হয়। এ খবরে অনেক দোকানি দাম বাড়িয়েছে। আর বিদ্যমান করোনার কারণে এ ঈদ মৌসুমে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ২০ শতাংশ কম হবে।

কৃত্রিম সংকটে দাম ঊর্ধ্বমুখী : ঈদের দিন পোস্তায় লবণ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ৭শ টাকা লবণের বস্তা ১২শ টাকা পর্যন্ত দাম উঠে যায়। অথচ ঈদের আগে ৫শ টাকা এবং ঈদের দিন ৭৪ কেজি বস্তা লবণ ৭শ টাকার বেশি বিক্রি করার কথা নয়। বৃহস্পতিবার অসাধুরা সংকটের অজুহাতে বেশি টাকা মুনাফা করতে হঠাৎ করে লবণের দাম বাড়িয়ে দেয়। এতে প্রতি বস্তা ৭০০ টাকার লবণ বিক্রি হয় এক হাজার টাকায়।

এ দিন পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তা এলাকায় কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম তদারকির সময় এমন অনিয়মের প্রমাণ পায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তদারকি টিম। এ সময় কারসাজি করে বেশি দামে লবণ বিক্রি করায় মেসার্স মদিনা সল্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক ভাবে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও দুই লবণ ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার দৈনিক ভোরের  খবরকে, কেউ যাতে অধিক মুনাফা করতে কারসাজি না করতে পারে এজন্য অধিদপ্তরের একাধিক টিম কাজ করছে। কেউ যদি অসাধুতা করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Daily Vorer Khabor
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102