আজ ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৭ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সময় : সকাল ১০:২৫

বার : সোমবার

ঋতু : গ্রীষ্মকাল

বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারতের মেঘালয়ের সীমান্তবর্তী সিলেটের উপজেলাগুলো
বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারতের মেঘালয়ের সীমান্তবর্তী সিলেটের উপজেলাগুলো

বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারতের মেঘালয়ের সীমান্তবর্তী সিলেটের উপজেলাগুলো

সিলেট প্রতিনিধিঃ  করোনা, মৃত্যু এবং আতঙ্কে বিপর্যস্ত সিলেট। মহামারির সঙ্গে লড়াই করে করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে মানুষ। পাচ্ছে না কোনো দিশাও। এই অবস্থায় সিলেটে আঘাত হেনেছে উজানের পাহাড়ি ঢল। ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারতের মেঘালয়ের সীমান্তবর্তী সিলেটের উপজেলাগুলো। ইতিমধ্যে চারটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনো উজানের প্রবল ঢল আসা অব্যাহত রয়েছে। করোনায় মন ভালো নেই সিলেটের মানুষের।

ক্রমেই
বেড়ে চলেছে করোনার গতি। লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। সিলেট বিভাগে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়েছে। সিলেট জেলাতেই এ সংখ্যা ২১শ’র উপরে। সিলেট জেলাতেই করোনায় মারা গেছেন ৫২ জন। গত দুইদিনে মৃত্যু ঘটেছে ৭ জনের। এ নিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র মতে- গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪৮ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট জেলাতেই আক্রান্তের সংখ্যা ১২২। ফলে কোনোভাবেই সিলেটে করোনা নিয়ে স্বস্তি ফিরছে না। অপ্রতুল চিকিৎসা ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে গতকাল থেকে সিলেটের খাদিমপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে করোনা চিকিৎসা শুরু হয়েছে। দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ঢাকা থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এদিকে গত দু’দিনে মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় উৎকন্ঠা বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন- অনেক রোগী উপসর্গ থাকলেও ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন না। আবার কোভিড আক্রান্ত রোগী যখন শ্বাসকষ্টে পড়ে তখন হাসপাতালে আসতে চায়। আর যখন আসে তখন কিছুই করার থাকে না। এসব কারণে সিলেটে দুইদিনে মৃত্যু হার বেড়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মারা যান তিনজন। এর মধ্যে দুইজন সিলেটের ও একজন হবিগঞ্জের।

দৈনিক ভোরের খবর এর জন্য সিলেট জেলা প্রতিনিধি আবশ্যক-dailyvorerkhabor@gmail.com

 

শনিবার সকাল পর্যন্ত মারা গেছেন ৪ জন। তাদের সবার বাড়ি সিলেটে। সিলেটে করোনার এই যখন অবস্থা তখন বন্যা আঘাত করেছে সীমান্ত এলাকাগুলোতে। গত তিনদিন ধরেই সিলেটে অবিরাম বর্ষণ হচ্ছে। এ বর্ষণে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে পানি বেড়েছে। ওদিকে- সিলেটের উজানে ভারতের মেঘালয়ের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায়ও টানা বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারাসহ প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের অবস্থা করুণ। বৃহস্পতিবার রাত থেকে ঢল নামতে শুরু করে ধলাই নদী দিয়ে। এক রাতেই ঢলে তলিয়ে গেছে কোম্পানীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। শনিবার বিকাল পর্যন্ত ঢল নামা অব্যাহত রয়েছে। রাতে পানি আঘাত হানে উপজেলা সদরে। এ কারণে উপজেলা সদর তলিয়ে গেছে হাঁটু পরিমাণ পানিতে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- করোনার কারণে কোম্পানীগঞ্জের পাথর ও পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছিলো। ফলে মানুষের কষ্টের সীমা ছিলোনা। কিন্তু নতুন করে বন্যা আঘাত হানার কারণে দুর্ভোগ বেড়েছে। ইতিমধ্যে এ উপজেলার ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সিলেটের সালুটিকর থেকে গোয়াইনঘাট সদরের রাস্তা দু’দিন ধরে পানির নিচে। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়েছে। উপজেলা সদরে বন্যার পানি আঘাত হেনেছে। এছাড়া সারি-গোয়াইনঘাট সড়কেও পানি। পানির কারণে গোয়াইনঘাটের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জৈন্তাপুরেরও বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সারি নদীর পানি গত দুইদিন ধরে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাটে নদীর পানি বেড়েছে। এতে করে সুরমা ডাউক হুমকির মুখে রয়েছে। জকিগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের বরাক নদী দিয়ে ঢল আসা অব্যাহত থাকার কারণে রাতের মধ্যে নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে বন্যার পানি আঘাত করবে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র আভাস দিয়েছে, আগামী কয়েকদিন সিলেটে বাড়বে নদ-নদীর পানি। এ কারণে বন্যা দেখা দেবে সিলেট অঞ্চলে। করোনার কারণে সিলেটের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক। কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন করে বন্যা আঘাত হানার কারণে মানুষের দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

     More News Of This Category