সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
পাবনায় একই অধ্যক্ষ, একই সময়ে দুই প্রতিষ্ঠানে ডিউটি, বড় দূর্নীতি টঙ্গীবাড়ীতে জাল দলিল ও ভুমি দস্যূতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন কমলনগরে জোরপূর্বক জমি ও ঘর দখলের অভিযোগ দৌলতপুরে গর্ভবতী মাকে গভীর রাতে হাসপাতালে পৌঁছে দিলেন ইউএনও সাটুরিয়ায় গুমের হুমকি দিয়ে ৮ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগ আশুলিয়ায় মামলা তুলে নিতে বাদী’কে ধর্ষণের হুমকি কমলনগরে জেলের মরদেহ উদ্ধার। কমলনগরে কাভার্ডভ্যান চাপায় দুই যুবক নিহত। দৌলতপুরে খামারিদের সাথে ভেটেরিনারি ডাক্তারদের মিলনমেলা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গাজিপুরে ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু আশুলিয়ায় মাই টিভির সাংবাদিকের বাসায় চুরি দৌলতপুরে সৎমায়ের সহযোগিতায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ৩জন আশুলিয়ায় ইন্সপেক্টর জামাল শিকদারের অভিযানে শ্রমিকদের বেতনের কয়েক লাখ টাকা উদ্ধার বেড়ায় শিয়ালের কামড়ে আহত ৪০ সড়ক দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক সদস্যর মৃত্যু আশুলিয়া জিরাবো বাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত দৌলতপুরে খোলা বাজারে ৩০টাকা কেজিতে চাউল বিক্রি শুরু করেছে খাদ‍্য অধিদপ্তর আশুলিয়ায় সরকারি আইন উপেক্ষা করে বাড়ি নির্মাণ করছেন মামুন মন্ডল বিয়ের ব্যার্থতায় অভিমানে কিশোরীর আত্মহত্যা সিলেটের গোলাপগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো ৩ জনের

বাঁশের সাইকেল,হেলিকপ্টার বানিয়ে জেল খেটেছিলেন পাবনার মুক্তিযোদ্ধা চতুর

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২০
  • ৪৩৩০ পাঠক সংখ্যা
মোন্তাজ আলী চতুর
মোন্তাজ আলী চতুর
ফিরে দেখোঃ পর্ব-০১
মরহুম মোন্তাজ আলী(চতুর)
সাবেক চেয়ারম্যান করমজা ইউনিয়ন পরিষদ ,সাঁথিয়া, পাবনা-৬৬৮০।
দীর্ঘ  ১৭ বছর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

করমজা ইউনিয়ন পরিষদ


১ম মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সাঁথিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।
ঐতিহ্যবাহী করমজা চতুর হাটের প্রতিষ্ঠাতা ।
তিনি ছিলেন বহু প্রতিভার অধিকারী একজন সাধারণ মানুষ।


উনার সম্পর্কে কিছু কথা হলো তাঁর ছেলের সাথে, কথাগুলো হুবহু নীচে তুলে ধরা হলোঃ 
বাবার কাছ থেকে ভালো লাগার যা কিছু তার আংশিক বর্ণনা।মনজুর কাদের স্কুলের বিদায় অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যতে বলেছিলেন সবাই বিদায় দিলেও আমি তোমাদের বিদায় দিতে আসিনি,তোমাদের এগিয়ে দিতে এসেছি যে তোমারা আরো উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করো।আগে সবাই বক্তব্যের  শেষে বলতো বাংলাদেশ দীর্ঘজীবি হোক। বাবা বলেছিলেন দীর্ঘেরও শেষ আছে, কয় ফুট লম্বা, কয় ফুট দৈর্ঘ।বাবা বললেন যে আমি বলবো বাংলাদেশ চিরজীবি হোক। সব চেয়ে খুশি হয়েছিলাম যেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনা G-8 সম্মেলনে বক্তব্য শেষে বললেন বাংলাদেশ চিরোজীবি হোক। এখন অনেকে বলেন,জিজ্ঞেস করছিলাম চেয়ারম্যান হলে নাকি অনেক টাকার মালিক হয় ! আপনি অনেক বার চেয়ারম্যান হয়ে সবকিছু বেচে বেচে নিঃস্য হয়ে যাচ্ছেন কেন?  উত্তর দিলেন ওরা চেয়ারম্যান না চোরম্যান। বেড়ার এগিনেস্টে চতুর বাজার করার সময় কিছু লোক বলেছিলেন।আপনি যে বেড়া আসছেন, আপনাকে মারার জন্য ঘুরছে। বাবা উত্তরে বললেন, কুকুর যতই ঘেউ ঘেউ করুক হাতি চলবেই। জিজ্ঞাস করেছিলাম,পাম্প হাউসে চায়না,কোরিয়ানরা জেটিকল,বুলডোজার মেরামত করতে না পারলে আপনি ঠিক করে দিয়ে আসেন এটা কি করে সম্ভব? উত্তর দিলেন, ওরা যদি ভালো পারতেন তাহলে বাংলাদেশে আসতো না।ঐ দেশেই কতো দরকার।বাবা,তালা চাবি থেকে শুরু করে বাস,ট্রাক এমনকি হেলিকপ্টার বানাতে গিয়ে হাজত খাটলেন। এসব কোথায় শিখছেন? বাবা, উত্তর দিলেন যে শেখে,সে যতো টুকু শেখে তার বেশি পারে না। আমিতো শিখি নাই।এগুলো, আল্লাহ্ প্রদত্ত।আমার বাবা চন্দ্র গ্রহন,সুর্য গ্রহন,বল, বাটি আর মোমবাতি দিয়ে এমন ভাবে শিখিয়েছেন। এখন ভাবি জানলে কতই সহজ। উত্তরবঙ্গের উন্নতম বাজার ও হাটের (চতুর হাট) এর  প্রতিষ্ঠাতা আমার বাবা।যুদ্ধের সময় বাবা ডান হাতে গুলি লাগলেও বের করতে দেননি সৃতি হিসাবে রেখে দিয়েছিলেন। যদিও বিভিন্ন সময় ব্যাথা অনুভব করতো।এক সময় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উত্তরবঙ্গে আসার সময় সবাই লাইনের দাঁড়িয়ে সংবর্ধনা দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত আর বাবা কিভাবে দার করাবে সেই নিয়ে ব্যস্ত। অনেক বাধার পরেও দুরে গিয়ে বেঞ্চ  দিয়ে বাধা দিলে পুলিশ ও নেতারা একযোগে বাবাকে ধরে । একপর্যায়ে জিয়াউর রহমান গাড়ি থেকে নেমে বাবাকে চিন্তে পেরে বাবাকে জরিয়ে ধরেন । বাবা তখন বেঞ্চে দারিয়ে ঘোষনা দিতে বলেন রাস্তার বেহাল অবস্থা দ্রুত কাজ করার প্রতিশ্রুতি অনুরোধ জানালেন । তখন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিশ্রুতির পাশা পাশি বাবার পরিচয় করিয়ে দেন মন্তাজ ভাই  শুধু  একজন গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন না সিমুলিয়া ক্যাম্পের অস্ত্র নষ্ট হলে তিনিই মেরামত করতেন এবং গান গেয়ে সবাইকে সাহস যোগাতেন। রাস্তাটির নাম শহিদ মিন্টু সড়ক । এক সময় বাবাকে এলাকার লোকজন জোর করে ইউ পি নির্বাচনে দার করান।পোষ্টার ছাপানোর টাকা ছিলো না। তাই জনগন বিকালে হারিকেন জালিয়ে গাছে ঝুলিয়ে রাখতেন(বাবার প্রতিক হারিকেন) এভাবেই প্রচার হয় হারিকেন মার্কার। জয়ী হওয়ার পর পত্রিকা সংবাদ দেখে ডি সি সাহেব খোঁজ নিতে বাড়িতে আসলে দেখেন ছনের ঘর। তাই টি এন ও সাহেবকে ৩০ বাদ টিন দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে,দাওয়াত নিয়ে বিদায় নিলেন। ঘর হলে আবার এসে চা খেয়ে যাবে। আবার এসে দেখলেন ঐ টিন বিভিন্ন লোককে ভাগ করে দিয়েছেন। কারন তারা বাবার চেয়েও গরীব। তিন সেট জার্মানি বাসি দিয়ে একটা হারমোনিয়াম বানাবে ঢাকাতে যেসব যায়গা বানায় কেউ সাহস পাচ্ছিলো না কিভাবে তিন সেট বাঁশি বসাবে, পরে বাবা নিজে হাতে বানাই। যেটা এখনো আমাদের কাছে আছে। বাবা ১৯৭২ সালে বেতার শিল্পী ছিলো। আমার দেখা এমন কোন বাদ্য যন্ত্র নাই তাকে বাজাতে দেখি নাই। বাবার লেখা অসংখ্য গান আছে।আমাদের ডাইনা ৩১ জার্মানি ইয়ার গানটার বাট ভেঙে গেলে আমাদের এলাকার সব চেয়ে নাম করা খুশি ফার্নিচার সঠিক ভাবে বানাতে পারেনি।পরে বাবা নিজে হাতে বানিয়েছেন এবং সে গান এখনো আছে। বাবা বাঁশ দিয়ে সাইকেল বানিয়ে চালিয়েছেন। বিশ্বের এক মাত্র ১০ তার বিশিষ্ট বাদ্য যন্ত্র তৈরি করে বাবা তার নাম দিয়ে ছিলো ম্যান্ডোলিন। তখন বাংলাদেশ বেতার সম্পাদক ফজলে-খোদা, ঢাকা নিয়ে গিয়ে সরকারি ভাবে একটা ঘোষনা দেন যে যেহেতু এর জন্ম বাংলাদেশে সেহেতু এর বাংলা নাম করোন করা হলো সুর ব্যান্জনি। তখন কার বেতার বাংলা নামে একটি পত্রিকায় প্রকাশ হলো ।  যে বইটি এখনো আমার কাছে সংরক্ষিত আছে।  নিউজ দেখে হানিফ সংকেত ভাই (ইত্যাদি) একটি বিদেশি কম্পানির সাথে মডেলটি ঐ কোম্পানীর নামে বাজার জাত করতে দিলে তখনকার ৫০ লক্ষ্য টাকা দিবে।বাবা বিক্রি করেননি। বলেছিলেন বাংলাদশি কোম্পানীয় যদি ৫ লাখ টাকাও দেয়, তাতে আপত্তি নাই।  ১৯৯৮ সালে হানিফ সংকেত ভাইয়ের ফ্যামেলি সহ্ বর্তমান সেরা নাট্যকার সালাউদ্দিন লাভলু সহ আমাদের বাড়িতে এসে হাজির। সুধু বাবার জীবনী নিয়ে পুরো একটা ইত্যাদি অনুষ্ঠান করবে। সন্ধ্যা হওয়ার কারণে ক্যামেরা  ভালো ছবি আসেনি। পরে বাবাকে পুনরায় ভিডিও করে পাঠাইলে তারা এডিটিং করে নিবে। বাবার উৎসাহ না থাকায় আর হলো না। বাবার কথা শেষ করার শেষটা কোথায় আমি জানি না। এতো কিছুর ভীরেও আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় আমার গর্ব আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। বাবা তোমায় অনেক মনে পড়ে।
মহান আল্লাহ যেন তাঁকে বেহেশতের মেহমান করে নেন- আমিন।
ফেসবুক থেকে সংগৃহীত…

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Daily Vorer Khabor
Design & Develop BY Coder Boss
themesba-lates1749691102